যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ চলতি বছরে সুদের হার আরও বাড়াতে পারে—এমন পূর্বাভাস জোরদার হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের মান বৃদ্ধি পেয়েছে। এর প্রভাবে বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে।

মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম প্রায় ১.৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,১১৯.১৩ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে স্বর্ণের ফিউচার বাজারেও দরপতন দেখা যায়, যেখানে আগস্ট মাসের চুক্তির দাম কমে দাঁড়ায় প্রায় ৪,১৩৭.১০ ডলার প্রতি আউন্সে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, শক্তিশালী ডলার এবং সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা স্বর্ণের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণ সাধারণত সংকটকালীন সময়ে চাহিদা পায়, তবে উচ্চ সুদের হার ও ডলার শক্তিশালী হলে এর আকর্ষণ কমে যায়।

বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার জানান, তেলের দাম কমলেও ডলারের শক্ত অবস্থানের কারণে স্বর্ণ বাজার তেমন সুবিধা নিতে পারেনি।

ফেডারেল রিজার্ভের নীতিনির্ধারণী অবস্থান নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফেডওয়াচ টুলের তথ্যানুযায়ী, আগামী মাসগুলোতে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

এদিকে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি ও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার অগ্রগতিও বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে। সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা ও নিষেধাজ্ঞা শিথিলতার খবরে ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের দিকে কিছুটা ঝোঁক দেখা গেলেও স্বর্ণের বাজারে তা স্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারেনি।

স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও দরপতন হয়েছে। রুপার দাম প্রায় ৪ শতাংশ কমে নেমে এসেছে প্রতি আউন্স ৬২.৫৯ ডলারে। একই সময়ে প্ল্যাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও যথাক্রমে প্রায় ২ শতাংশ ও ২.৩ শতাংশ কমেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক তথ্য এবং ফেডের নীতিগত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে স্বর্ণ ও রুপার বাজারের পরবর্তী দিকনির্দেশনা।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version