দীর্ঘদিনের সরকারবিরোধী আন্দোলন, সড়ক অবরোধ এবং অর্থনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ।

জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি জানান, কয়েক সপ্তাহ ধরে চলমান অবরোধের কারণে দেশের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। খাদ্য, জ্বালানি ও চিকিৎসা সামগ্রী সরবরাহে সংকট তৈরি হওয়ায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, টানা সড়ক অবরোধের ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিবহন ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। এই অবস্থায় প্রধান সড়কগুলো সচল করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সামরিক বাহিনীকে সক্রিয় ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন, কৃষক গোষ্ঠী এবং বিরোধী রাজনৈতিক সমর্থকরা সরকারের অর্থনৈতিক নীতির সমালোচনা করছেন। তাদের দাবি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, মজুরি বৃদ্ধি এবং জ্বালানি ও বৈদেশিক মুদ্রা সংকটের কার্যকর সমাধান করতে হবে।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হলেও তা কাঙ্ক্ষিত ফল দেয়নি। ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জরুরি অবস্থা ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মাত্র কয়েক মাস আগে ক্ষমতায় আসা প্রেসিডেন্ট পাজ অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তবে জ্বালানি ভর্তুকি কমানোসহ কয়েকটি সিদ্ধান্তের পর জনঅসন্তোষ বৃদ্ধি পায়।

বর্তমানে বলিভিয়া উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি এবং জ্বালানি সংকটের মতো একাধিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা এখন সরকারের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version