সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবারের সদস্যসহ বিভিন্ন ব্যক্তির নামে থাকা বিপুল পরিমাণ সম্পদ জব্দ করা হলেও এর বড় অংশ এখনো কার্যত নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেনি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

তদন্ত ও আদালতের আদেশ অনুযায়ী প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দের নির্দেশ থাকলেও এর প্রায় ৮০ শতাংশ স্থাবর সম্পদে এখনো রিসিভার নিয়োগ সম্পন্ন হয়নি। ফলে কাগজে-কলমে সম্পদ জব্দ থাকলেও বাস্তবে সেগুলোর ব্যবহারের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিশ্চিত করা যায়নি।

দুদক সূত্রে জানা যায়, জব্দ হওয়া সম্পদের মধ্যে দেশের ভেতরেই রয়েছে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার সম্পদ। এর একটি অংশে রিসিভার নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হলেও বড় অংশ এখনো প্রক্রিয়াধীন বা ঝুলে আছে।

রাজধানীর গুলশানের একটি বহুতল ভবনের ফ্ল্যাটসহ কয়েকটি সম্পদ জব্দের আদেশ থাকলেও সেগুলো পুরোপুরি হস্তান্তর বা রিসিভার নিয়োগ সম্পন্ন হয়নি বলে জানা গেছে। একই ধরনের পরিস্থিতি সেগুনবাগিচাসহ আরও কিছু সম্পদের ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে।

দুদকের কর্মকর্তারা বলছেন, আদালতের নির্দেশের পর সম্পদ শনাক্ত, যাচাই-বাছাই ও রিসিভার নিয়োগের জন্য দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। জনবল ও সময়ের সীমাবদ্ধতা এ কাজকে আরও ধীর করে দিচ্ছে।

তবে সমালোচকদের মতে, শুধুমাত্র প্রক্রিয়াগত জটিলতা নয়, কার্যকর তদারকি ও দ্রুত বাস্তবায়নের ঘাটতিও এই বিলম্বের অন্যতম কারণ। তাদের দাবি, রিসিভার নিয়োগে ধীরগতির কারণে অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত মালিক বা সংশ্লিষ্ট পক্ষ এখনও এসব সম্পদের সুবিধা ভোগ করতে পারছে।

অন্যদিকে, সীমিত সংখ্যক ক্ষেত্রে রিসিভার নিয়োগ কার্যকর করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে কিছু অর্থ জমা করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জব্দ সম্পদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে হলে দুদককে আরও দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

সব মিলিয়ে, বিপুল অঙ্কের এই সম্পদ জব্দের সিদ্ধান্ত থাকলেও বাস্তব নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনায় এখনো বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version