জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার মান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করার পরও কেন অনেক শিক্ষার্থী সাবলীলভাবে পড়তে পারে না এবং কেন উচ্চ ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ ইংরেজিতে কার্যকরভাবে কথা বলতে অক্ষম।

তার মতে, বিদেশি ভাষা শিক্ষার প্রসার ঘটানোর আগে শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ভাষার মৌলিক দক্ষতা—পড়া, লেখা ও বলার সক্ষমতা—নিশ্চিত করা উচিত। তিনি মনে করেন, এই ভিত্তি শক্তিশালী হলে তরুণরা দেশ-বিদেশের কর্মক্ষেত্রে আরও দক্ষতার সঙ্গে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে আলোচনায় তিনি শুধু শিক্ষা নয়, রাজস্ব আদায়, ঋণনির্ভরতা, বিনিয়োগ পরিস্থিতি, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা এবং স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। বাজেট বাস্তবায়নের সক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি একটি উদাহরণ দেন। তার বক্তব্য ছিল, সীমিত ও বৈধ আয়ের ওপর নির্ভর করে রাজধানীতে বিপুল ব্যয়ে বিলাসবহুল জীবনযাপন বা বিশাল আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন যেমন কঠিন, তেমনি বাস্তবসম্মত আয়ের উৎস ছাড়া বিশাল বাজেটের লক্ষ্য অর্জনও চ্যালেঞ্জিং।

তবে বক্তব্যের শুরুতে তিনি অর্থমন্ত্রীর একটি সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও কৃষিপণ্যের ওপর উৎসে কর কমানোর ফলে বাজারে কিছুটা স্বস্তি আসতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

পরবর্তীতে তিনি প্রস্তাবিত বাজেটের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, সরকারের আয় বৃদ্ধির যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তা অর্জনের জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সক্ষমতা ও পূর্ববর্তী আদায়ের বাস্তব চিত্রও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। তার মতে, লক্ষ্য নির্ধারণের পাশাপাশি বাস্তবায়নের পথও স্পষ্ট হওয়া দরকার।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version