বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হওয়ার আগেই আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে ইরান জাতীয় ফুটবল দল। দলের কোচ ও খেলোয়াড়দের অভিযোগ, বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতা ও ভ্রমণসংক্রান্ত বিধিনিষেধ তাদের প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলছে এবং বিশ্বকাপের স্বাভাবিক পরিবেশ থেকেও দূরে সরিয়ে দিচ্ছে।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচের আগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ইরানের প্রধান কোচ আমির গালেনোয়ি বিষয়টি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক ফুটবলের মতো একটি মঞ্চে সব দলের জন্য সমান সুযোগ ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি তাদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
কোচের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান দলকে পুরো টুর্নামেন্ট চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রে ক্যাম্প করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। ফলে তাদের মেক্সিকোকে অস্থায়ী ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করতে হচ্ছে। ম্যাচ খেলতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে আবার মেক্সিকোতে ফিরে যেতে হচ্ছে দলকে।
গালেনোয়ি মনে করেন, এ ধরনের পরিস্থিতি খেলোয়াড়দের মানসিক প্রস্তুতি ও টুর্নামেন্টের সামগ্রিক অভিজ্ঞতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি বলেন, জয়-পরাজয় খেলার অংশ হলেও খেলাধুলার চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
একই সুরে কথা বলেন ইরানের অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড মেহদি তারেমি। তাঁর মতে, বিশ্বকাপ সাধারণত উৎসব, আনন্দ ও বৈশ্বিক ঐক্যের প্রতীক। কিন্তু বিভিন্ন অনিশ্চয়তা ও প্রশাসনিক জটিলতা সেই আবহকে অনেকটাই ম্লান করে দিয়েছে।
তারেমি আরও বলেন, শুধু ইরান নয়, অন্যান্য অংশগ্রহণকারীদের মধ্যেও একই ধরনের সমস্যার উদাহরণ দেখা গেছে। কিছু কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভ্রমণ জটিলতার ঘটনাও বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক সম্পর্ক ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বাস্তবতা কখনো কখনো বড় ক্রীড়া আসরেও প্রভাব ফেলতে পারে। তবে ফিফা ও আয়োজকদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—সব দেশের অংশগ্রহণকারীদের জন্য সমান সুযোগ ও নির্বিঘ্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা।
এদিকে মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার আগে এসব ইস্যু নিয়ে আলোচনা বাড়লেও ইরান দল এখন তাদের প্রথম ম্যাচের দিকে পূর্ণ মনোযোগ দিতে চায়।
