ইসলাম শুধু নামাজ, রোজা বা অন্যান্য ব্যক্তিগত ইবাদতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং সমাজ, রাষ্ট্র এবং মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকেও গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হিসেবে বিবেচনা করে। যারা নিজেদের জীবন ও স্বাচ্ছন্দ্য ত্যাগ করে দেশের স্বাধীনতা, জনগণের নিরাপত্তা এবং সীমান্তের সুরক্ষায় নিয়োজিত থাকেন, ইসলামে তাদের জন্য রয়েছে বিশেষ মর্যাদা ও মহাপুরস্কারের ঘোষণা।
ইসলামী পরিভাষায় সীমান্ত বা গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা অঞ্চলে সতর্ক অবস্থানে থেকে শত্রুর অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ করাকে ‘রিবাত’ বলা হয়। কোরআন ও হাদিসে এই দায়িত্বের এমন ফজিলতের কথা এসেছে, যা অনেক নফল ইবাদতের চেয়েও অধিক মর্যাদাপূর্ণ বলে বর্ণিত হয়েছে।
পবিত্র কোরআনে মুমিনদের ধৈর্যশীল, সতর্ক এবং নিরাপত্তা রক্ষায় সদা প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, এই নির্দেশনার মধ্যে সমাজ ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যাপারটিও অন্তর্ভুক্ত।
রাসুলুল্লাহ (সা.) সীমান্ত পাহারার গুরুত্ব সম্পর্কে বলেছেন, আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে একদিন প্রহরায় থাকা দুনিয়ার সমস্ত সম্পদ ও ভোগ-বিলাসের চেয়েও উত্তম। অন্য এক হাদিসে তিনি উল্লেখ করেন, আল্লাহর পথে এক দিন ও এক রাত পাহারায় থাকা এক মাসের নফল রোজা ও রাতভর ইবাদতের চেয়েও বেশি সওয়াবের কারণ হতে পারে।
ইসলামে এই দায়িত্বের আরেকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো—যদি কোনো ব্যক্তি এমন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন, তাহলে তার নেক আমলের প্রতিদান মৃত্যুর পরও অব্যাহত থাকে। হাদিসে এসেছে, আল্লাহ তাআলা তাকে বিশেষ নিরাপত্তা দান করবেন এবং তার সওয়াবের ধারা বন্ধ হবে না।
নবী করিম (সা.) আরও শিক্ষা দিয়েছেন যে, আল্লাহর ভয়ে অশ্রুসিক্ত চোখ এবং আল্লাহর পথে জেগে থেকে নিরাপত্তা রক্ষাকারী চোখ—এই দুই চোখকে জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে না। এর মাধ্যমে সীমান্তরক্ষী ও নিরাপত্তাকর্মীদের মর্যাদা কতটা উঁচু, তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
ইসলামের ইতিহাসেও এমন বহু উদাহরণ রয়েছে, যেখানে সাহাবায়ে কেরাম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে মহান সুসংবাদ লাভ করেছেন। তাদের সতর্কতা, আত্মত্যাগ এবং নিষ্ঠা ইসলামী আদর্শে নিরাপত্তা রক্ষার গুরুত্বকে আরও উজ্জ্বলভাবে তুলে ধরে।
বর্তমান সময়ে সীমান্তরক্ষী বাহিনী, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, কোস্ট গার্ড এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যরা দেশের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। যদি তারা দেশ ও মানুষের কল্যাণ এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিজেদের দায়িত্ব পালন করেন, তাহলে ইসলামী শিক্ষার আলোকে তারা এই মহান প্রতিদানের আশা করতে পারেন।
সবশেষে বলা যায়, ইসলাম মানুষের নিরাপত্তা, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং রাষ্ট্রের সুরক্ষাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। সীমান্ত রক্ষা শুধু একটি পেশাগত দায়িত্ব নয়; এটি আল্লাহর কাছে একটি মহৎ আমলও হতে পারে। তাই যারা জনগণের নিরাপত্তার জন্য নিরলস পরিশ্রম করেন, তারা সম্মান ও কৃতজ্ঞতার দাবিদার।
আল্লাহ তাআলা আমাদের দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের হেফাজত করুন, তাদের খেদমত কবুল করুন এবং দুনিয়া ও আখিরাতে উত্তম প্রতিদান দান করুন। আমিন।
