ইউক্রেনে যুদ্ধের মানবিক মূল্য আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। জাতিসংঘের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০২৬ সালের মে মাসে দেশটিতে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মে মাসে অন্তত ২৭৪ জন সাধারণ নাগরিক নিহত এবং ১ হাজার ৭৬৩ জন আহত হয়েছেন। ২০২২ সালের এপ্রিলের পর কোনো এক মাসে এত বেশি বেসামরিক হতাহতের ঘটনা আর দেখা যায়নি।
জাতিসংঘ বলছে, এক বছরের ব্যবধানে হতাহতের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় নিহত ও আহতের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট হতাহতের প্রায় ৪৫ শতাংশই ঘটেছে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কারণে। রাজধানী কিয়েভসহ যুদ্ধক্ষেত্র থেকে দূরের বিভিন্ন শহরও এসব হামলার শিকার হয়েছে।
এছাড়া যুদ্ধের সম্মুখসারিতে স্বল্প-পাল্লার ড্রোন এখন বেসামরিক নাগরিকদের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে। শুধু মে মাসেই ড্রোন হামলায় ৬৪ জন নিহত এবং ৫৩৯ জন আহত হয়েছেন, যা যুদ্ধ শুরুর পর এক মাসে সর্বোচ্চ বলে উল্লেখ করেছে জাতিসংঘ।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে ইউক্রেনে ১৬ হাজারের বেশি বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন ৪৬ হাজারেরও বেশি।
তবে জাতিসংঘের ধারণা, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। কারণ রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন অনেক এলাকায় পর্যাপ্ত তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না।
ইউক্রেন যুদ্ধ যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই বাড়ছে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ এবং প্রাণহানির সংখ্যা। আন্তর্জাতিক মহল এখন নতুন করে যুদ্ধ বন্ধ ও বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছে।
