বরিশালের একটি বেসরকারি হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে কর্তব্যরত এক চিকিৎসকের ওপর হামলা ও শারীরিক লাঞ্ছনার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিএনপি। দলটির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক Rafiqul Islam এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক মুহম্মদ মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, একজন রোগীর মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং নিহতের পরিবার-স্বজনদের শোক ও কষ্টের প্রতি সবাই সহমর্মী। তবে কোনো অবস্থাতেই সেই শোক বা ক্ষোভ চিকিৎসক, নার্স, টেকনোলজিস্ট কিংবা স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো কর্মীর ওপর হামলা, অপমান, ভাঙচুর বা হুমকির মাধ্যমে প্রকাশ করা গ্রহণযোগ্য নয়।
চিকিৎসা পেশা ঝুঁকিপূর্ণ ও মানবিক
বিবৃতিতে অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা সীমিত জনবল, সীমিত সম্পদ এবং অতিরিক্ত রোগীর চাপের মধ্যেও প্রতিনিয়ত মানুষের জীবন রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসক, নার্স ও হাসপাতাল কর্মীদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের একটি সমীক্ষা অনুযায়ী চিকিৎসক ও নার্সদের প্রায় ৪৮ শতাংশ কোনো না কোনো ধরনের শারীরিক বা মানসিক নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। অথচ এসব ঘটনার মাত্র ২৭.৮ শতাংশ আনুষ্ঠানিকভাবে রিপোর্ট করা হয়েছে।
আইন নিজের হাতে নেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়
বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক বলেন, চিকিৎসাসংক্রান্ত কোনো অভিযোগ থাকলে তার তদন্ত, জবাবদিহি ও আইনি প্রতিকারের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু হাসপাতালের ভেতরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা বা দায়িত্ব পালনরত স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলা চালানো কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
তার ভাষায়, এ ধরনের হামলা শুধু একজন চিকিৎসকের ওপর আঘাত নয়; বরং পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থা, রোগীদের সেবা পরিবেশ এবং সাধারণ মানুষের চিকিৎসা পাওয়ার অধিকারের ওপরও সরাসরি আঘাত।
দ্রুত তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি
অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম এ ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়ে বলেন, হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে প্রচলিত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
পাশাপাশি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসক, নার্স, টেকনোলজিস্টসহ সব স্বাস্থ্যকর্মীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং হাসপাতালভিত্তিক নিরাপত্তা প্রটোকল জোরদারের আহ্বান জানান তিনি।
স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান
বিবৃতিতে স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন দ্রুত বাস্তবায়নেরও দাবি জানানো হয়। বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক বলেন, স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে তারা মানসিকভাবে ভীত ও নিরুৎসাহিত হয়ে পড়বেন, যার নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি রোগীদের চিকিৎসাসেবার ওপর পড়বে।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্যখাতকে নিরাপদ ও কার্যকর রাখতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মর্যাদা, নিরাপত্তা এবং পেশাগত স্বাধীনতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র, প্রশাসন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সমাজের সকল সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব।
