যুক্তরাষ্ট্রে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। দেশটির বাজারে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পেলেও ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন নন এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসান হলে মূল্যস্ফীতিও কমে আসবে বলে আশা করছেন।

মূল্যস্ফীতি নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যবৃদ্ধির হার গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, তিনি বর্তমান মুদ্রাস্ফীতিকে “পছন্দ” করেন এবং এটি সাময়িক বলে মনে করেন।

তার দাবি, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট এবং বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি ও পণ্যের দাম বেড়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসান ঘটলে বাজারও দ্রুত স্থিতিশীল হবে।

হরমুজ প্রণালি ও তেলের বাজার

ট্রাম্প জানান, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখতে তিনি হরমুজ প্রণালি দিয়ে মার্কিন তেলবাহী জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার একটি বিশেষ সামরিক পরিকল্পনা অনুমোদন করেছিলেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্তের ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে।

ফেডারেল রিজার্ভের ওপর চাপ

মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির ফলে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক Federal Reserve সুদের হার কমানোর পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যদিও ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে সুদের হার কমানোর পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন।

নির্বাচনের আগে বাড়ছে চাপ

আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে। বিরোধীরা দাবি করছে, নির্বাচনের সময় ট্রাম্প যে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, বাস্তবে তা পূরণ করা সম্ভব হয়নি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, খাদ্যপণ্য, জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে তা ক্ষমতাসীনদের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

বাজারে অনিশ্চয়তা অব্যাহত

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা দ্রুত কমে না গেলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে। এমনকি দ্রুত কোনো সমঝোতা হলেও সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।

ফলে ২০২৬ সালের বাকি সময়জুড়ে বিশ্ববাজারে মূল্যচাপ এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version