ভারতের একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমতার প্রতি তার কোনো মোহ নেই, তবে দেশের মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকে তিনি নিজেকে দূরে সরিয়ে নিতে পারেন না।

সাক্ষাৎকারে তিনি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণভবন ত্যাগের ঘটনাকে স্মরণ করে বলেন, পরিস্থিতি এতটাই দ্রুত পরিবর্তিত হয়েছিল যে তিনি দেশের বাইরে চলে যাবেন—এমন কোনো প্রস্তুতি বা ধারণা তার ছিল না। নিরাপত্তাজনিত কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই তাকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

‘মানুষের উন্নয়নই ছিল আমার রাজনীতির লক্ষ্য’

শেখ হাসিনা বলেন, তার রাজনৈতিক জীবনের প্রধান লক্ষ্য ছিল দেশের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং জীবনমানের অগ্রগতি। তিনি দাবি করেন, ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য জনগণের জীবন ঝুঁকিতে ফেলার চিন্তা তিনি কখনো করেননি।

বর্তমান পরিস্থিতিতেও জনগণের পাশে থাকার মানসিকতা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের মানুষের কল্যাণের প্রশ্নে তিনি দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে চান না।

আন্দোলন নিয়ে প্রশ্ন

জুলাই-আগস্টের আন্দোলন প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা দাবি করেন, এটি স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন ছিল না; বরং সরকার পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে পরিচালিত হয়েছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দেশি-বিদেশি বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী এতে জড়িত ছিল।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, আন্দোলনের সময় সহিংসতা, অবকাঠামো ভাঙচুর এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির পেছনে পরিকল্পিত কর্মকাণ্ড ছিল।

আইসিটির রায় নিয়ে প্রতিক্রিয়া

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) রায় প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, এটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসাপ্রসূত। একই সঙ্গে তিনি জাতিসংঘের মানবাধিকার সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন।

অবসরের সম্ভাবনা নাকচ

সাক্ষাৎকারের শেষ অংশে শেখ হাসিনা স্পষ্টভাবে জানান, তিনি রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার কথা ভাবছেন না। তার বিশ্বাস, সত্য ও ন্যায়ের পথ কঠিন হলেও শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হয়।

তিনি বলেন, দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করাই তার রাজনৈতিক জীবনের মূল লক্ষ্য এবং সেই দায়িত্ব থেকে তিনি নিজেকে সরিয়ে নিতে চান না।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version