দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বর্তমানে ১,৭৮১ দশমিক ০৯ মেগাওয়াটে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি জানান, সরকার দীর্ঘমেয়াদে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে।

রোববার (৭ জুন) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন (নরসিংদী-১)-এর লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য দেন।

মন্ত্রী জানান, সরকারের “নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি-২০২৫” অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে পূরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এই নীতির আওতায় গ্রিড-সংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎ, রুফটপ সোলার এবং ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, যাতে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার দ্রুত বৃদ্ধি পায়।

মন্ত্রী আরও জানান, বর্তমানে দেশে ২৬টি নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণাধীন রয়েছে, যেগুলোর মোট সক্ষমতা ১,১৭২ মেগাওয়াট। পাশাপাশি ৬৬৫ মেগাওয়াট সক্ষমতার আরও ১৫টি প্রকল্পের দরপত্র প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, যা ২০২৯ সালের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে।

সরকার বেসরকারি খাতকে এই খাতে আরও যুক্ত করতে নতুন নীতিমালাও চালু করেছে বলে জানান তিনি। এর মাধ্যমে বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা বিদ্যুৎ উৎপাদন করে সরকারি গ্রিডে সরবরাহ করতে পারবেন অথবা সরাসরি বড় গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করতে পারবেন।

সব মিলিয়ে সরকার দীর্ঘমেয়াদে প্রায় ১০,০০০ মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়েছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা যেমন বাড়বে, তেমনি কার্বন নির্গমনও উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version