ঢাকা, ৭ জুন: শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় নিম্ন আদালতের দেওয়া রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, উচ্চ আদালতেও এ রায় বহাল থাকবে এবং সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুত রায় কার্যকর করা সম্ভব হবে।
রোববার (৭ জুন) সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
রায় কার্যকর প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, “আইনের সব স্তর অনুসরণ না করে রায় কার্যকর করা হলে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তাই দণ্ডপ্রাপ্তরা উচ্চ আদালতে যেতে চাইলে সরকারও আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করবে। তবে সব আইনি ধাপ সম্পন্ন করে তিন মাসের মধ্যে রায় কার্যকর করা সম্ভব হবে বলে আমরা আশা করছি।”
তিনি বলেন, “এত বড় একটি অমানবিক ঘটনার বিচার এত দ্রুত সম্পন্ন হওয়া দেশের বিচারব্যবস্থার ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।”
রামিসার মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো জাতি শোকাহত ছিল উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, “আমরা রামিসাকে আর ফিরিয়ে আনতে পারব না, তার বাবা-মায়ের কাছেও তাকে ফিরিয়ে দিতে পারব না। তবে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যা যা করা সম্ভব, আমরা তা করার চেষ্টা করেছি।”
তিনি জানান, ১৯ মে ঘটনার পর মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে, ২৪ মে তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়। এরপর সরকারি ছুটির মধ্যেও বিচারকাজ এগিয়ে নিতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়।
আইনমন্ত্রী বলেন, “সরকারপ্রধান এক মাসের মধ্যে বিচারকাজ শেষ করার নির্দেশনা দিয়েছিলেন। সে অনুযায়ী নিম্ন আদালতের ছুটি থাকা সত্ত্বেও শিশু ট্রাইব্যুনালকে ছুটির আওতার বাইরে রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রধান বিচারপতির সম্মতির পর বিচারিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়।”
তিনি আরও জানান, ১ জুন অভিযোগ গঠন (চার্জ ফ্রেম) করা হয় এবং কার্যত মাত্র ছয় কার্যদিবসের মধ্যে মামলার বিচার সম্পন্ন হয়, যা দেশের ইতিহাসে বিরল ঘটনা।
মন্ত্রী বলেন, “উপমহাদেশে এর আগে ভারতের নদীয়ায় একদিনে বিচার সম্পন্ন হওয়ার একটি নজির রয়েছে। আমাদের দেশেও অত্যন্ত স্বল্প সময়ে এই মামলার বিচার সম্পন্ন হয়েছে। নিম্ন আদালতের ঘোষিত রায়ে আমরা আপাতত সন্তুষ্ট এবং আশা করি উচ্চ আদালতেও এটি বহাল থাকবে।”
তিনি বলেন, বিচারপ্রক্রিয়ার এই গতি ভবিষ্যতে শিশু নির্যাতন ও নারী-শিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
