মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে কুয়েত ও বাহরাইনের দিকে সাতটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান—এমন দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। একই সঙ্গে চারটি ইরানি ‘ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক’ ড্রোনও ভূপাতিত করার কথা জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ড্রোনগুলোর সম্ভাব্য লক্ষ্য ছিল উপসাগরীয় অঞ্চলে চলাচলকারী বাণিজ্যিক ও সামরিক নৌযান। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, হুমকি তৈরি করার আগেই ড্রোনগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, নিক্ষেপ করা সাতটি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ছয়টি আকাশেই ভূপাতিত করা হয়েছে। বাকি একটি ক্ষেপণাস্ত্রও নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারেনি।
সেন্টকম আরও জানায়, এ পর্যন্ত মার্কিন সেনাদের কোনো হতাহত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তরে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ইরানের যে দাবি, তা সঠিক নয় বলেও উল্লেখ করা হয়।
অন্যদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা ‘এরোস্পেস মিসাইল’ ব্যবহার করে অঞ্চলে অবস্থিত ‘শত্রু ঘাঁটিগুলোতে’ হামলা চালিয়েছে। আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে, হরমুজ প্রণালির দিকে উৎক্ষেপণ করা চারটি ইরানি ড্রোনও তারা ভূপাতিত করেছে। পাশাপাশি ইরানের দক্ষিণ উপকূলের কেশম দ্বীপ ও গ্রেটার তুনব অঞ্চলের উপকূলীয় নজরদারি রাডার স্থাপনায় হামলার কথাও জানায় মার্কিন বাহিনী।
এদিকে ইরানের নৌবাহিনী জানিয়েছে, ওমান উপসাগরে মার্কিন জাহাজগুলোর ‘উস্কানিমূলক কার্যক্রমের’ জবাবে তারা সতর্কতামূলক গুলি ছুড়েছে। তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
অন্যদিকে, লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, দক্ষিণ লেবাননের জেবডিন এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন প্যারামেডিকও রয়েছেন। সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর থাকলেও দেশটির বিভিন্ন এলাকায় হামলা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক বাণিজ্যেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
