কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন নাটকীয় মোড় নিয়েছে। দলীয় বিদ্রোহ ও বিধায়কদের একাংশের অবস্থান পরিবর্তনের জেরে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক কাঠামোতে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দলের সব কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছেন দলপ্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্রোহী বিধায়কদের সমর্থনে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। দাবি করা হচ্ছে, তার পক্ষে ৫৮ জনেরও বেশি বিধায়কের সমর্থন রয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হওয়ার জন্য ন্যূনতম ৩০ জন বিধায়কের সমর্থন প্রয়োজন। বিদ্রোহী শিবিরের পক্ষ থেকে স্পিকার রথীন্দ্র বসুর কাছে জমা দেওয়া চিঠিতে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরিষদীয় নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। চিঠিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলের নেত্রী হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে নির্বাচনে পরাজয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেস শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে মনোনীত করেছিল। তবে পরবর্তীতে দলীয় রেজুলেশনে বিধায়কদের স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করে সিআইডি। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে আসেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
এই বিতর্কের মধ্যেই তৃণমূলের দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ প্রকাশ্যে আনেন। পরে তাদের দল থেকে বহিষ্কার করা হলে বিদ্রোহ আরও তীব্র আকার ধারণ করে।
গত ৩১ মে কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে দলীয় বৈঠক ডাকা হলেও প্রত্যাশিত সংখ্যক বিধায়ক উপস্থিত হননি। একই দিনে কলকাতার একটি হোটেলে বিদ্রোহী শিবিরের পৃথক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে জানা যায়। সেখান থেকেই দল ভাঙনের ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
বুধবার বিদ্রোহী বিধায়কেরা আনুষ্ঠানিকভাবে স্পিকারের কাছে নিজেদের স্বাক্ষরিত চিঠি জমা দিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরিষদীয় নেতা হিসেবে নির্বাচনের ঘোষণা দেন। একইসঙ্গে জাভেদ খান, সন্দীপন সাহা ও শিউলি সাহাকে ডেপুটি লিডার এবং আখরুজ্জামানকে মুখ্য সচেতক হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ৮০টি আসনে জয়লাভ করেছিল। দলত্যাগবিরোধী আইন অনুযায়ী, বৈধভাবে আলাদা গোষ্ঠী গঠন করতে কমপক্ষে ৫৩ জন বিধায়কের সমর্থন প্রয়োজন। বিদ্রোহী শিবির দাবি করছে, বর্তমানে তাদের সঙ্গে ৫৯ জনের বেশি বিধায়ক রয়েছেন এবং আরও কয়েকজন পরবর্তীতে সমর্থন জানাবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে এবং তৃণমূল কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক অবস্থান নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

