যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই জব্দকৃত ১২ বিলিয়ন ডলার অর্থে অবিলম্বে প্রবেশাধিকার চেয়েছে ইরান।
দেশটির আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সি-এর বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে CNN।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান জানিয়েছে, চুক্তি স্বাক্ষরের পর তাদের জব্দকৃত সম্পদ ব্যবহারে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি হলে তারা সমঝোতা থেকে সরে যাওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করবে।
আলোচনার সঙ্গে যুক্ত সাংবাদিক সাঈদ আজোরলু বলেন, ১২ বিলিয়ন ডলারের এই অর্থে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করাই চুক্তি বাস্তবায়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গ্যারান্টি হওয়া উচিত।
তার দাবি, মোট অর্থের মধ্যে প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার ইরানের পূর্বে জব্দকৃত সম্পদ, আর বাকি ৬ বিলিয়ন ডলার নতুনভাবে ছাড় দেওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছিল, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে অন্তর্বর্তী চুক্তি হলে মোট ২৪ বিলিয়ন ডলারের ইরানি সম্পদ মুক্ত হতে পারে। এর অর্ধেক অর্থ চুক্তি ঘোষণার সময়ই ছাড় দেওয়া হতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
ফার্স নিউজের তথ্য অনুযায়ী, এই অর্থ ব্যবস্থাপনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে কাতার। আলোচনায় অংশ নেওয়া ইরানি প্রতিনিধি দলের এক সদস্য দাবি করেন, কাতার এ প্রক্রিয়ায় ‘গ্যারান্টর’ হিসেবে কাজ করবে।
ইরানের দাবি, অতীত অভিজ্ঞতার কারণে তারা এমন কোনো চুক্তিতে যেতে চায় না, যেখানে সমঝোতার পরও যুদ্ধ বা রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে আবার সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ হারানোর ঝুঁকি থাকে।
তবে কাতার সরকার জানিয়েছে, ইরানকে চুক্তি নিশ্চিত করতে ১২ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার কোনো প্রস্তাব তারা দেয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করার বিষয়টি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। আস্থা পুনর্গঠন এবং নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা সম্পদ ব্যবহারের প্রশ্নই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
