জাতীয় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে নতুন একটি গোয়েন্দা কাউন্সিল গঠনের আইন পাস করেছে জাপানের সংসদ। বুধবার (২৭ মে) দেশটির পার্লামেন্টে আইনটি অনুমোদন দেওয়া হয়।
নতুন এই উদ্যোগকে প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির নিরাপত্তা নীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সরকার বলছে, বিদেশি গুপ্তচরবৃত্তি প্রতিরোধ, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, সংবেদনশীল প্রযুক্তি সুরক্ষা এবং জাতীয় নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
জাপানের নীতিনির্ধারকদের মতে, বর্তমান গোয়েন্দা কাঠামো বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মধ্যে বিচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত হওয়ায় সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে। এ কারণে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণে কার্যকারিতা কমে যাচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরেই দেশটির বিদ্যমান আইন ও নিরাপত্তা কাঠামোকে তুলনামূলক দুর্বল বলে সমালোচনা করে আসছেন বিশ্লেষকরা। কেউ কেউ জাপানকে “গুপ্তচরদের স্বর্গ” বলেও উল্লেখ করেছেন।
চীন-জাপান সম্পর্কের সাম্প্রতিক উত্তেজনার পর বিষয়টি আরও গুরুত্ব পায়। বিশেষ করে তাইওয়ান ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির মন্তব্যের পর নিরাপত্তা কৌশল পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা সামনে আসে।
গত নভেম্বরে তিনি বলেছিলেন, চীন যদি তাইওয়ান দখলের চেষ্টা করে, তাহলে জাপান সামরিকভাবে হস্তক্ষেপের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে। এরপর থেকেই আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা আরও তীব্র হয়।
সংসদে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি বলেন, নতুন কাউন্সিল পুলিশ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সংস্থার গোয়েন্দা কার্যক্রমকে সমন্বিত করবে।
তিনি বলেন, “শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সম্ভাব্য সংকট আগেই শনাক্ত করা জরুরি। সে জন্য কার্যকর গোয়েন্দা সহায়তা কাঠামো গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
নতুন আইনের আওতায় বিদ্যমান গোয়েন্দা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও কেন্দ্রীয় কাঠামোয় রূপ দেওয়া হবে। এই কাউন্সিল জাতীয় নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তা–সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ এবং নীতিনির্ধারণে সহায়তা করবে।

