সাম্প্রতিক- উত্তেজনার মধ্যে ইসরায়েলকে রক্ষায় নিজেদের উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার বড় অংশ ব্যবহার করেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’-এর তথ্যের বরাতে এ খবর জানিয়েছে এএনআই।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংঘাত চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষায় ২০০টির বেশি থাড (THAAD) ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করেছে। এটি পেন্টাগনের মোট মজুদের উল্লেখযোগ্য অংশ বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি পূর্ব ভূমধ্যসাগরে অবস্থানরত মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ থেকেও স্ট্যান্ডার্ড মিসাইল-৩ ও স্ট্যান্ডার্ড মিসাইল-৬ নিক্ষেপ করা হয়।
অন্যদিকে ইসরায়েল তুলনামূলকভাবে কম প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দেশটি অ্যারো ইন্টারসেপ্টর ও ডেভিড’স স্লিং ক্ষেপণাস্ত্রের সীমিত ব্যবহার করেছে, যার কিছু ইয়েমেন ও লেবাননভিত্তিক ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলোর ছোড়া রকেট প্রতিহত করতে ব্যবহৃত হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানের মাধ্যমে সংঘাতের সূচনা হয়। কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা হামলা-পাল্টা হামলায় ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব বড় ধরনের চাপে পড়ে।
পরবর্তীতে এপ্রিলের শুরুতে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। এরপর থেকেই তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা দাবি করেন, পুরো সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র বিপুলসংখ্যক ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করে ইরানের ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করেছে। তবে নতুন করে সংঘাত শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও বেশি প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করতে হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন কর্মকর্তারা।
তাদের মতে, ইসরায়েলের কিছু প্রতিরক্ষা ব্যাটারি বর্তমানে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় ভবিষ্যৎ সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে।
যদিও দাবি করেছে, পুরো অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সমানভাবে দায়িত্ব ভাগাভাগি করেছে। পেন্টাগনের মুখপাত্র বলেন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ছিল বৃহৎ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি অংশ মাত্র এবং অভিযানে উন্নত প্রযুক্তি, ড্রোন প্রতিরোধব্যবস্থা ও যুদ্ধবিমান কার্যকরভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।
ওয়াশিংটনে অবস্থিত ইসরায়েলি দূতাবাসও যৌথ অভিযানের প্রশংসা করে জানিয়েছে, দুই দেশের মধ্যে সামরিক সমন্বয় ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।
