
গত শুক্রবার (১৫ মে) ভারতের সুপ্রিম কোর্টের এক শুনানিতে প্রধান বিচারপতি Surya Kant কিছু বেকার তরুণকে ইঙ্গিত করে ‘তেলাপোকার মতো’ মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে।
বিচারপতির বক্তব্য অনুযায়ী, অনেক তরুণ কর্মসংস্থান বা পেশাগত অবস্থান তৈরি করতে না পেরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, গণমাধ্যম কিংবা অধিকারকর্মীর পরিচয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যবস্থার সমালোচনায় যুক্ত হচ্ছেন।
তবে বক্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। পরে বিচারপতি সূর্য কান্ত ব্যাখ্যা দিয়ে জানান, তিনি পুরো তরুণ সমাজকে নয়, বরং ভুয়া ডিগ্রিধারীদের উদ্দেশে মন্তব্য করেছিলেন।
‘সব তেলাপোকা এক হলে?’
এই বিতর্কের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত ভারতীয় তরুণ Abhijit Dipke সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট করেন—
“সব তেলাপোকা যদি একজোট হয়?”
এরপরই তিনি চালু করেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামে একটি ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পেজ।
ভারতের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল Bharatiya Janata Party–এর নামের আদলে তৈরি এই ব্যঙ্গাত্মক উদ্যোগ দ্রুতই অনলাইনে ভাইরাল হয়ে যায়।
অদ্ভুত সদস্যপদ শর্ত!
দলটিতে যোগদানের জন্য মজার ছলে কয়েকটি শর্তও দেওয়া হয়েছে। যেমন—
- বেকার হতে হবে
- অলস থাকতে হবে
- সবসময় অনলাইনে সক্রিয় থাকতে হবে
- অভিযোগ করার ‘পেশাদার দক্ষতা’ থাকতে হবে
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বিষয়গুলো নিয়ে চলছে অসংখ্য মিম, ট্রল ও ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট।
কেন এত জনপ্রিয় হলো?
বিশ্লেষকদের মতে, ভারতে দীর্ঘদিন ধরে বাড়তে থাকা বেকারত্ব, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক বিভাজনের কারণে তরুণদের মধ্যে এক ধরনের হতাশা তৈরি হয়েছে। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ সেই ক্ষোভ ও হতাশার প্রতীক হিসেবেই জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।
জানা গেছে, ভারতে প্রতি বছর ৮০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী স্নাতক সম্পন্ন করলেও তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার প্রায় ২৯ শতাংশের কাছাকাছি।
ফলে অনেকেই মনে করছেন, এই ভাইরাল ব্যঙ্গাত্মক উদ্যোগ শুধু হাস্যরস নয়, বরং বর্তমান ভারতের তরুণ সমাজের অসন্তোষেরও একটি প্রতিচ্ছবি।