চলমান যুদ্ধের উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে রাশিয়া ও ইউক্রেনর মধ্যে। এবার রাশিয়ার অভ্যন্তরে বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন, যার অন্যতম লক্ষ্য ছিল রাজধানী মস্কো।

ইউক্রেনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, পাঁচ শতাধিক ড্রোন হামলায় অন্তত ৪ জন নিহত হয়েছেন এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন। এই হামলা ছিল সম্প্রতি কিয়েভে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবে।

অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মস্কোসহ একাধিক অঞ্চলে মোট ৫৫৬টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। একই সঙ্গে ইউক্রেনের লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলাও চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে মস্কো।

এর আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি কিয়েভে হামলার পর প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দেন। তিন দিনের সাময়িক যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলার মাত্রা বেড়েছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটেও নতুন চাপ তৈরি হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন রাশিয়ার তেল কেনার ওপর দেওয়া বিশেষ ছাড় আর না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে ভারতসহ বিভিন্ন দেশের জন্য সমুদ্রপথে রুশ তেল আমদানি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট আগেই জানিয়েছিলেন, এই লাইসেন্সের মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না। একই অবস্থান নিয়েছেন মার্কিন সিনেটর জিন শাহিন ও এলিজাবেথ ওয়ারেন। তাদের মতে, তেল বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থ রাশিয়া যুদ্ধ পরিচালনায় ব্যবহার করছে।

এদিকে যুদ্ধের প্রভাব আশপাশের দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ছে। ন্যাটো সদস্য রোমানিয়াতে ইউক্রেন সীমান্তের কাছে একটি অবিস্ফোরিত গোলা উদ্ধার করা হয়েছে। একইভাবে লাটভিয়াতেও ড্রোন পড়ে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী এভিকা সিলিনা প্রতিরক্ষা খাতে ব্যর্থতার দায়ে পদত্যাগ করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এসব ঘটনা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে যুদ্ধ শুধু দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এর প্রভাব ইউরোপজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version