দেশে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর একটি প্রস্তাব উঠেছে, যেখানে ইউনিটপ্রতি মূল্য সর্বোচ্চ ২৯ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। এ প্রস্তাব জমা দিয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি), বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)-এর কাছে।
প্রস্তাবে বলা হয়েছে, পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৭ থেকে ২১ শতাংশ পর্যন্ত এবং খুচরা পর্যায়ে বিভিন্ন গ্রাহক শ্রেণিতে ১৫ থেকে ২৯ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। যদি এটি কার্যকর হয়, তাহলে দেশের প্রায় ৪ কোটি ৯৫ লাখ গ্রাহক সরাসরি প্রভাবের মুখে পড়বেন।
যাদের ওপর বেশি চাপ পড়বে
বিশেষজ্ঞদের মতে, সবচেয়ে বেশি চাপ পড়বে মাসে ৭৬ থেকে ২০০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর ওপর। কারণ, নতুন প্রস্তাবে আবাসিক বিলের ধাপ (স্ল্যাব) পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে।
বর্তমানে ধাপে ধাপে বিল নির্ধারণ করা হলেও প্রস্তাব অনুযায়ী ০ থেকে ২০০ ইউনিট পর্যন্ত একটি একক ধাপ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে কম ইউনিট ব্যবহারকারীদের যে সুবিধা ছিল, তা অনেকটাই কমে যাবে।
বিল কত বাড়তে পারে
উদাহরণ হিসেবে, বর্তমানে ২০০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করলে বিল হয় প্রায় ১,২৯৪ টাকা। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী শুধু স্ল্যাব পরিবর্তনের কারণে বিল বাড়বে প্রায় ১৪৫ টাকা। আর নতুন দর কার্যকর হলে মোট বিল দাঁড়াতে পারে প্রায় ১,৬৪০ টাকা—অর্থাৎ প্রায় ৩৪৫ টাকা বেশি।
কেন বাড়ানো হচ্ছে
পিডিবি জানিয়েছে, জ্বালানি আমদানির ব্যয় বৃদ্ধি, অলস বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জ এবং বিতরণ কোম্পানিগুলোর বাড়তে থাকা লোকসান—এসব কারণে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিতরণ সংস্থাগুলোর সম্মিলিত লোকসান প্রায় ২,৬৩৮ কোটি টাকা হয়েছে, যা আগামীতে আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আরও যেসব পরিবর্তনের প্রস্তাব
- বেসরকারি হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বাণিজ্যিক ট্যারিফে আনা
- নতুন ভবন নির্মাণে ব্যবহৃত বিদ্যুতের ক্ষেত্রে দ্বিগুণ বিল
- প্রিপেইড মিটারের ছাড় কমানো বা বাতিল
- ইজিবাইক চার্জিং স্টেশনে আলাদা ট্যারিফ বাতিল
- পাইকারি দাম বাড়লে সরাসরি খুচরা বিলে যোগ করার ‘পাস-থ্রু’ পদ্ধতি চালু
কখন কার্যকর হতে পারে
বিতরণ কোম্পানিগুলো আগামী ১ জুন থেকে নতুন দর কার্যকর করতে চায়। এছাড়া ভবিষ্যতে প্রতি ছয় মাস পরপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিদ্যুতের দাম সমন্বয়ের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, প্রস্তাবটি বাস্তবায়ন হলে সাধারণ ভোক্তাদের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে—বিশেষ করে মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এটি বড় চাপ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
