রাশিয়া নতুন একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে উল্লেখ করেছেন। পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম এই ক্ষেপণাস্ত্রের নাম ‘সারমাট’।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর চীন সফরের ঠিক আগ মুহূর্তে এই পরীক্ষার তথ্য প্রকাশ করায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প বুধবার তিনদিনের সফরে চীন যাওয়ার কথা রয়েছে।

রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক মিসাইল ফোর্সের কমান্ডার সের্গেই কারাকাভে মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট পুতিনের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ সংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দেন। পরে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে পুতিন জানান, চলতি বছরের শেষ নাগাদ ‘সারমাট’ রাশিয়ার সামরিক বাহিনীতে যুক্ত হবে।

তার দাবি, ক্ষেপণাস্ত্রটির বিস্ফোরক বহনের সক্ষমতা পশ্চিমা বিশ্বের সমমানের যেকোনো ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি। এছাড়া এটি সাব-অরবিটাল বা উপকক্ষীয় পথে উড়তে সক্ষম হওয়ায় এর পাল্লা ৩৫ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিমা দেশগুলো ‘সারমাট’ ক্ষেপণাস্ত্রকে ‘শয়তান-২’ নামেও চেনে। রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী, এটি আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও ভেদ করতে সক্ষম।

রাশিয়া ২০১১ সালে সারমাট প্রকল্পের কাজ শুরু করে। মঙ্গলবারের পরীক্ষার আগে একবার সফল উৎক্ষেপণের তথ্য প্রকাশ হয়েছিল। তবে ২০২৪ সালে একটি পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণে বড় ধরনের বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। দুই দেশের কৌশলগত পারমাণবিক ওয়ারহেড সীমিত রাখার চুক্তি ‘নিউ স্টার্ট’-এর মেয়াদ গত ফেব্রুয়ারিতে শেষ হয়েছে। বর্তমানে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কোনো নতুন চুক্তি না থাকায় আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

যদিও ‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তির মেয়াদ বাড়াতে মস্কো ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চালুর আগ্রহ রয়েছে, তবে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version