
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সাম্প্রতিক এক গোপন মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ইরান এখনো শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধরে রেখেছে এবং দেশটির সামরিক অবকাঠামো প্রত্যাশার তুলনায় দ্রুত পুনর্গঠিত হচ্ছে। নতুন এই মূল্যায়ন যুক্তরাষ্ট্রের আগের কিছু প্রকাশ্য বক্তব্যের সঙ্গে ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে।
গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ইরান তাদের বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, মোবাইল লঞ্চার ও ভূগর্ভস্থ সামরিক স্থাপনার ওপর পুনরায় কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। স্যাটেলাইট নজরদারি ও বিভিন্ন গোয়েন্দা বিশ্লেষণের ভিত্তিতে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এই মূল্যায়ন প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন অঞ্চলে থাকা ইরানের অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এখনো সক্রিয় রয়েছে। বিশেষ করে মোবাইল লঞ্চার ব্যবস্থার কারণে দ্রুত অবস্থান পরিবর্তন ও হামলা চালানোর সক্ষমতা দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করেছে।
এছাড়া ইরানের ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামোর বড় অংশ এখনো সচল রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব স্থাপনা আংশিক বা পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে বলে গোয়েন্দা পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। ফলে দেশটির সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি দুর্বল হয়ে গেছে—এমন ধারণা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের অস্ত্রভাণ্ডারে দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং নৌ-লক্ষ্যবস্তুতে ব্যবহৃত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র রয়েছে। এই বহুমাত্রিক সামরিক সক্ষমতা মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
প্রতিবেদনে আরও সতর্ক করা হয়েছে, হরমুজ প্রণালী ঘিরে ইরানের সামরিক উপস্থিতি আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হওয়ায় এই এলাকায় উত্তেজনা বাড়লে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও তার প্রভাব পড়তে পারে।
তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করেনি। সাধারণত এ ধরনের গোয়েন্দা মূল্যায়ন সীমিত পরিসরে নীতিনির্ধারকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়ে থাকে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই মূল্যায়ন থেকে বোঝা যাচ্ছে যে সাম্প্রতিক চাপ ও সংঘাতের মধ্যেও ইরান তার সামরিক সক্ষমতার একটি বড় অংশ ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে কৌশলগত হিসাব-নিকাশ শুরু হতে পারে।