
আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ময়মনসিংহ জেলায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে দুই লাখ ২৬ হাজার ১৪৮টি পশু। জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ সংখ্যা জেলার মোট চাহিদার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। তবে পশুর ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন খামারিরা।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা ধরা হয়েছে এক লাখ ৮১ হাজার ২৬৬টি। বিপরীতে জেলার ১৩টি উপজেলায় প্রস্তুত রয়েছে দুই লাখ ২৬ হাজার ১৪৮টি পশু। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় উদ্বৃত্ত রয়েছে ৪৪ হাজার ৮৮২টি পশু, যা জেলার বাইরে বিক্রি করা হতে পারে।
প্রস্তুত পশুর মধ্যে গরুর সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। জেলায় রয়েছে এক লাখ ১৫ হাজার ৯৪৭টি গরু এবং এক লাখ তিন হাজার ৯৬৬টি ছাগল। এছাড়া কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে পাঁচ হাজার ৩৪৪টি ভেড়া ও ৮৮৬টি মহিষ।
জেলা অতিরিক্ত প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, গত দুই বছরে ময়মনসিংহে কোরবানি কিছুটা কম হলেও এবার চাহিদা বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সে কারণেই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি পশু প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
তবে পশুর সংখ্যা বেশি হলেও খামারিদের মধ্যে বাজারদর নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন উপজেলার খামারি ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাম্প্রতিক দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি এবং অতিবৃষ্টিতে বোরো ধানের ক্ষতির কারণে অনেক কৃষক আর্থিক সংকটে পড়েছেন। ফলে অনেকেই এবার কোরবানি দেওয়ার সক্ষমতা হারিয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তারাকান্দা উপজেলার বাসিন্দা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, বোরো মৌসুম গ্রামের কৃষকদের জন্য সারা বছরের বড় আশা। কিন্তু অতিবৃষ্টি, ধান কাটার বাড়তি খরচ এবং কম বাজারদরের কারণে কৃষকেরা এবার ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এতে কোরবানি করা অনেকের জন্য কঠিন হয়ে গেছে।
এদিকে খামারিরা বলছেন, পশুখাদ্য ও শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচও বেড়েছে। কিন্তু বাজারে কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়া নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় আছেন।
গৌরীপুর উপজেলার গোলকপুর গ্রামের খামারি মো. আলীম উদ্দিন জানান, অন্যান্য বছর ঈদের কয়েক মাস আগেই ঢাকার পাইকাররা খামারে এসে গরু কেনার জন্য বায়না করতেন। কিন্তু এবার ঈদের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি থাকলেও এখনও কোনো পাইকার তার খামারে আসেননি। তার আশঙ্কা, শেষ পর্যন্ত স্থানীয় বাজারে কম দামে গরু বিক্রি করতে হতে পারে।