
যুক্তরাজ্যের স্থানীয় নির্বাচনে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি। নির্বাচনে ব্যাপক আসন হারানোর পর প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে এখন দলীয় ভেতরেই তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তার পদত্যাগের দাবিও জোরালো হয়ে উঠছে।
নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর সোমবার দেওয়া এক ভাষণে স্টারমার পরাজয়ের দায় নিজের কাঁধে নেন। তিনি বলেন, সরকার কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে আরও ন্যায়ভিত্তিক ও শক্তিশালী ব্রিটেন গঠনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ চালিয়ে যাবে।
স্টারমার স্বীকার করেন, সরকারের কিছু ভুল ছিল। তবে তার দাবি, বড় রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলো সঠিকভাবেই নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ইরান-সংক্রান্ত সামরিক সংঘাতে যুক্তরাজ্যকে সরাসরি জড়ানো হয়নি—এ সিদ্ধান্তকে তিনি ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় অপেক্ষমাণ রোগীর সংখ্যা কমানো, শিশু দারিদ্র্য মোকাবিলা এবং অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে সরকার কিছু অগ্রগতি অর্জন করেছে। তার ভাষায়, দেশের মৌলিক ভিত্তি এখনও শক্ত অবস্থানে রয়েছে।
তবে নির্বাচনের ফলাফল লেবার পার্টির জন্য বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে। ইংল্যান্ডে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কাউন্সিলর হারিয়েছে দলটি। এর বড় অংশ চলে গেছে ডানপন্থী রিফর্ম ইউকে এবং গ্রিন পার্টির দখলে।
এর পর থেকেই স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন দলীয় নেতারা। কয়েকজন এমপি প্রকাশ্যে নতুন নেতৃত্ব আনার দাবি জানিয়েছেন। কেউ কেউ মনে করছেন, বর্তমান নেতৃত্বে জনগণের আস্থা কমে গেছে।
লেবার দলের এমপি ক্যাথরিন ওয়েস্ট দ্রুত নেতৃত্ব পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে স্টারমারের সাবেক ঘনিষ্ঠদের মধ্য থেকেও সমালোচনা এসেছে। সাবেক মিত্র জশ সিমন্স মন্তব্য করেছেন, প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষের আস্থা ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন।
ওয়েলসে দীর্ঘদিনের লেবার শাসনের অবসান এবং স্কটল্যান্ডে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়াও দলটির জন্য নতুন চাপ তৈরি করেছে।
তবে এখনো স্টারমারের পাশে রয়েছেন দলের কিছু প্রভাবশালী নেতা। শিক্ষা সচিব ব্রিজেট ফিলিপসন সতর্ক করে বলেছেন, নেতৃত্ব পরিবর্তনের প্রতিযোগিতা শুরু হলে দল আরও গভীর সংকটে পড়তে পারে।
চাপ সামাল দিতে দলীয় পুনর্গঠনের উদ্যোগও নিয়েছেন স্টারমার। সাবেক প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন এবং ব্যারোনেস হারম্যানকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, সামাজিক অসন্তোষ, গাজা যুদ্ধ নিয়ে জনমত এবং ডানপন্থী রাজনীতির উত্থান—সব মিলিয়ে ব্রিটিশ রাজনীতিতে নতুন এক অনিশ্চয়তার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
সূত্র: আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।