
দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় অভিনেতা থালাপতি বিজয় এবার নতুন পরিচয়ে আলোচনায়। দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েন শেষে তামিলনাড়ুতে সরকার গঠন করেছে তার নেতৃত্বাধীন দল তামিলাগা ভেটরি কাজাগাম (টিভিকে)। কংগ্রেস, ভিসিকে এবং বামপন্থী দলগুলোর সমর্থনে গঠিত নতুন জোট সরকারের প্রধান হিসেবে রোববার মুখ্যমন্ত্রীর শপথ নেন তিনি।
চেন্নাইয়ের নেহরু স্টেডিয়ামে আয়োজিত শপথ অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক সমর্থকের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। চলচ্চিত্রের পর্দা থেকে রাজনীতির মঞ্চে বিজয়ের এই উত্থান অনেকের কাছেই যেন সিনেমার গল্পকেও হার মানায়।
চলচ্চিত্র পরিবারেই বেড়ে ওঠেন বিজয়। তার বাবা এস এ চন্দ্রশেখর ছিলেন তামিল চলচ্চিত্রের পরিচিত পরিচালক। বাবার পরিচালিত একটি সিনেমার মাধ্যমে শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয়জগতে পা রাখেন তিনি। জানা যায়, সেই সময় অভিনয়ের জন্য তার প্রথম পারিশ্রমিক ছিল মাত্র ৫০০ রুপি।
পরবর্তীতে ধীরে ধীরে দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় তারকায় পরিণত হন বিজয়। একের পর এক ব্যবসাসফল সিনেমা তাকে পৌঁছে দেয় তারকাখ্যাতির শীর্ষে। বর্তমানে তিনি ভারতের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া অভিনেতাদের একজন হিসেবেও পরিচিত।
ভারতীয় গণমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার সাম্প্রতিক আলোচিত সিনেমা ‘জন নায়গন’-এর জন্য তিনি প্রায় ২২০ কোটি রুপি পারিশ্রমিক নিয়েছেন। শিশুশিল্পী হিসেবে পাওয়া ৫০০ রুপি থেকে কয়েকশ কোটি রুপির পারিশ্রমিক—এই যাত্রা ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গনে এক বিরল উদাহরণ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
রাজনীতিতে প্রবেশের পরও বিজয় শুরু থেকেই তরুণদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে সক্ষম হন। সামাজিক ইস্যু, দুর্নীতি বিরোধী বক্তব্য এবং পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি তাকে রাজনৈতিকভাবেও শক্ত অবস্থানে নিয়ে আসে।
অভিনয়জীবনের সাফল্যের পর এবার প্রশাসনিক দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়ে নতুন অধ্যায় শুরু করলেন থালাপতি বিজয়। চলচ্চিত্রের নায়ক থেকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী—তার এই যাত্রা এখন ভারতজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
সূত্র: ভারতীয় গণমাধ্যম
