
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালীর অচলাবস্থার প্রভাব সরাসরি পড়েছে সৌদি আরবের অর্থনীতিতে। তেল রফতানি ব্যাহত হওয়ায় ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসেই বড় ধরনের বাজেট ঘাটতির মুখে পড়েছে দেশটি।
সৌদি অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে বাজেট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২৫.৭ বিলিয়ন সৌদি রিয়াল, যা ডলারে প্রায় ৩৩.৫ বিলিয়নের সমান। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এটি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি, এমনকি সাম্প্রতিক পূর্বাভাসকেও ছাড়িয়ে গেছে।
এই সময় সরকারের ব্যয় বেড়ে পৌঁছেছে প্রায় ৩৮৬.৭ বিলিয়ন রিয়ালে, যা বছরওয়ারি প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে। অন্যদিকে তেল খাত থেকে আয় কিছুটা কমে ১৪৪.৭ বিলিয়ন রিয়ালে নেমে এসেছে। অ-তেল খাত থেকে আয় সামান্য বৃদ্ধি পেলেও তা মোট ঘাটতি সামাল দিতে যথেষ্ট হয়নি।
ব্যয়ের খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, অর্থনৈতিক উন্নয়ন খাতে সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি হয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসনিক ব্যয়, প্রতিরক্ষা, অবকাঠামো ও পরিবহন খাতেও উল্লেখযোগ্য ব্যয় বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে।
চলতি বছরের জন্য সৌদি আরব যেখানে মোট ৬৫ বিলিয়ন রিয়াল ঘাটতির পূর্বাভাস দিয়েছিল, সেখানে বছরের শুরুতেই তার চেয়ে অনেক বেশি ঘাটতি তৈরি হওয়ায় অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় চাপ তৈরি হয়েছে।
হরমুজ প্রণালীর প্রভাব
বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। সাধারণত বৈশ্বিক তেল পরিবহনের বড় একটি অংশ এই পথ দিয়েই সম্পন্ন হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে প্রণালীতে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
এর ফলে সৌদি আরব, যা বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল রফতানিকারক দেশ, সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়েছে। বিকল্প হিসেবে পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনের মাধ্যমে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর ব্যবহার করে কিছু রফতানি অব্যাহত থাকলেও তা পূর্ণ সক্ষমতার ঘাটতি পূরণ করতে পারছে না।
উল্লেখ্য, সৌদি আরবের সরকারি আয়ের বড় অংশই তেল খাতনির্ভর। ফলে এই খাতে সামান্য অস্থিরতাও সামগ্রিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।
কূটনৈতিক পরিস্থিতি
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালী ঘিরে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ সাময়িকভাবে স্থগিত রেখেছে। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত সমাধান না হলে এই সংকট দীর্ঘমেয়াদে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে, যার প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না।