সাবেক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর একটি মামলায় হাইকোর্ট থেকে স্থায়ী জামিন পেলেও আরেকটি হত্যা মামলায় তার জামিন আবেদন নাকচ করা হয়েছে। একইসঙ্গে সাবেক রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন তিনটি মামলায় স্থায়ী জামিন পেয়েছেন। তবে সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবুর জামিন আবেদন খারিজ করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৫ মে) পৃথক পাঁচটি জামিন আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে আসাদুজ্জামান নূর, নূরুল ইসলাম সুজন এবং মোজাম্মেল বাবুর পক্ষ থেকে অসুস্থতা ও দীর্ঘদিন কারাবাসের বিষয় তুলে ধরে জামিন প্রার্থনা করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, ২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার হওয়া আসাদুজ্জামান নূরের বিরুদ্ধে নীলফামারীতে দুটি মামলা রয়েছে—একটি সিদ্দিক আলীকে গাড়িচাপায় হত্যার অভিযোগ এবং অন্যটি বিএনপি নেতা গোলাম রাব্বানী হত্যার ঘটনা। এর মধ্যে রাব্বানী হত্যা মামলায় তিনি জামিন পেলেও সিদ্দিক আলী হত্যা মামলায় আদালত জামিন মঞ্জুর করেননি।
এর আগে একই আদালত ‘জুলাই অভ্যুত্থান’ সংশ্লিষ্ট একটি মামলাতেও তাকে জামিন দিয়েছিলেন।
অন্যদিকে, ২০২৪ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার হওয়া নূরুল ইসলাম সুজনের বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী ও পঞ্চগড়ে দায়ের হওয়া তিনটি হত্যা মামলায় হাইকোর্ট স্থায়ী জামিন দিয়েছেন। তার আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, আপিল বিভাগে রাষ্ট্রপক্ষ চ্যালেঞ্জ না করলে তার মুক্তিতে আইনি বাধা থাকবে না।
এদিকে, একাত্তর টিভির সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা মোজাম্মেল বাবুকে বনানী থানার একটি চাঁদাবাজি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০০৭ সালে একটি টেলিভিশন প্রতিষ্ঠানে গিয়ে অর্থ দাবি ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর সীমান্ত এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয় এবং তখন থেকেই তিনি কারাগারে আছেন।
শুনানিতে সুজন ও বাবুর পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা আদালতে যুক্তি তুলে ধরেন, তবে শেষ পর্যন্ত বাবুর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয়।
