দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও দ্বন্দ্বের অবসান ঘটাতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সম্ভাব্য শান্তি উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা চলছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, ১৪ দফার একটি প্রস্তাব সামনে এসেছে যেখানে যুদ্ধবিরতি, পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ এবং ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। এই প্রস্তাবটি পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আলোচনায় এসেছে বলে জানা যায়।
প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম ধাপে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে একটি অনাক্রমণ চুক্তি স্বাক্ষরের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে লোহিত সাগর ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা কমানো এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালিতে স্থিতিশীলতা ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণে একটি আন্তর্জাতিক তদারকি দল গঠনের কথাও বলা হয়েছে।
দ্বিতীয় ধাপে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সীমিত সমঝোতার প্রস্তাব রয়েছে। এতে ইরান সাময়িকভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত রাখতে পারে, তবে পুরো কর্মসূচি বন্ধ করার শর্ত গ্রহণ করবে না। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে পারমাণবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং আটকে থাকা ইরানি সম্পদ ছাড়ের প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে।
তৃতীয় ধাপে মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার বিষয়ে আলোচনা প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক উন্নয়ন এবং লেবানন ও ইয়েমেনসহ বিভিন্ন সংঘাত প্রশমনের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তবে এই উদ্যোগ ঘিরে এখনো অনিশ্চয়তা কাটেনি। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রস্তাবটি নিয়ে আপত্তির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এছাড়া ইসরায়েলের অবস্থান এবং পারমাণবিক ইস্যুতে দুই দেশের মতপার্থক্য এখনো বড় বাধা হয়ে রয়েছে।
এদিকে, ইসলামাবাদে পরোক্ষ আলোচনার মাধ্যমে দুই পক্ষের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, আগামী কয়েক সপ্তাহ পরিস্থিতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই সময়েই বোঝা যাবে এই উদ্যোগ বাস্তব কোনো শান্তি চুক্তিতে রূপ নিতে পারে কি না।
