ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা। আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে—রাজ্যটি কি থাকবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে, নাকি তা চলে যাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল বিজেপির নিয়ন্ত্রণে।
গত ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় পশ্চিমবঙ্গে। তবে অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় নির্বাচন কমিশন ফালতা এলাকায় পুনরায় ভোটগ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে। ওই কেন্দ্রে আগামী ২১ মে ভোট হবে এবং ২৪ মে গণনা সম্পন্ন হবে। ফলে মোট ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২৯৩টির ফল আগে ঘোষণা করা হবে।
প্রায় দেড় দশক ধরে পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অন্যদিকে, রাজ্যটিতে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলতে দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বিজেপি। এবারের নির্বাচনেও দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছে—অমিত শাহ থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী মোদি পর্যন্ত সরাসরি মাঠে নেমেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে জয় পেলে বিজেপি শুধু একটি রাজ্যই দখল করবে না, বরং পূর্ব ভারতে নিজেদের প্রভাব বিস্তারে এক নতুন অধ্যায় শুরু করবে। একই সঙ্গে এটি হবে বড় একটি প্রতীকী বিজয়। বিপরীতে, তৃণমূলের পরাজয় হলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জাতীয় রাজনীতিতে অবস্থান কিছুটা দুর্বল হতে পারে।
ইতিমধ্যে বিভিন্ন বুথফেরত জরিপে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, বিজেপি এগিয়ে থাকতে পারে এবং ১৯০টির বেশি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস পেতে পারে প্রায় ১০০টি আসন।
তবে এসব জরিপের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার অভিযোগ, অর্থের বিনিময়ে এসব সমীক্ষা প্রভাবিত করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, পশ্চিমবঙ্গের এই নির্বাচন শুধু একটি রাজ্যের ক্ষমতার লড়াই নয়—এটি ভারতের বৃহত্তর রাজনৈতিক সমীকরণেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

