
কালবৈশাখী ঝড় ও টানা ভারী বৃষ্টিতে সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় জনজীবনে ভোগান্তি বাড়ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে বিয়ানীবাজার ও ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা। প্রায় প্রতিদিনই ঝড়-বৃষ্টি হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ লাইন মেরামত করেও স্বাভাবিক সরবরাহ ধরে রাখা যাচ্ছে না।
বিয়ানীবাজারে পরিস্থিতি বেশি গুরুতর
বিয়ানীবাজারে গত এক সপ্তাহ ধরে ঝড়ের কারণে পল্লী বিদ্যুতের সঞ্চালন ও সরবরাহ লাইন, তার এবং খুঁটি বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে বড় আকারের বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার কিছু এলাকায় ৩০ থেকে ৪০ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং চলেছে। আবার কোথাও এক সপ্তাহ ধরে বিদ্যুৎ নেই—এমন অভিযোগও করছেন বাসিন্দারা।
পল্লী বিদ্যুতের সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, ঝড় থামলে মেরামত শুরু হয়; কিন্তু কিছুক্ষণ পর আবার ঝড় উঠলে নতুন করে লাইন ছিঁড়ে যায়। অনেক জায়গায় খুঁটি ভেঙে বা উপড়ে পড়ায় কয়েকটি গ্রামের সংযোগ একসঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে।
“পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে পারছি না”—শিক্ষার্থীদের সংকট
উপজেলার এক দাখিল পরীক্ষার্থী জানান, এক সপ্তাহ ধরে বিদ্যুৎ কার্যত নেই। মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ এলেও লোডশেডিংয়ের কারণে ধারাবাহিকভাবে বেশিক্ষণ থাকে না। ঝড়-বাদল চলায় পড়াশোনার জন্য রাতে মোমবাতিই ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গ্রাহকসংখ্যা ও চাহিদা: ৬২ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত
পল্লী বিদ্যুতের বিয়ানীবাজার জোনাল অফিসের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলায় মোট গ্রাহক ৬২,৮৯৪ জন। এর মধ্যে আবাসিক গ্রাহক ৫৪,৯১৫ জন এবং বাণিজ্যিক গ্রাহক ৭,৯৭৯ জন। স্বাভাবিক সময়ে চাহিদা পূরণে ২৫–২৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হলেও, টানা দুর্যোগে লাইন-খুঁটির ক্ষতি হওয়ায় সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা যাচ্ছে না। বৈরী আবহাওয়ায় মাঠপর্যায়ে কাজ করতেও বেগ পেতে হচ্ছে বিদ্যুৎকর্মীদের।
একাধিক কর্মীর ভাষ্য, দিন-রাত কাজ করেও ক্ষতির মাত্রা সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে—একদিন মেরামতের পরদিনই নতুন ঝড়ে আবার সব নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
ফেঞ্চুগঞ্জেও দুর্ভোগ: বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ, লোডশেডিং ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত
একই ধরনের ভোগান্তি চলছে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলাতেও। স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, ৩টি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকায় সেখানে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। এর সঙ্গে কালবৈশাখীতে লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়েছে।
ফলে কলকারখানা, ব্যাংক-বীমা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবাসহ জরুরি নানা কাজ ব্যাহত হচ্ছে। গভীর রাত ও ভোরে দীর্ঘ লোডশেডিংয়ে শিশু ও বয়স্কদের কষ্ট বাড়ছে। উৎপাদন ব্যবস্থাও ধাক্কা খাচ্ছে।
