বর্তমান সময়ে ফেসবুক মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ বা অন্যান্য অনলাইন মাধ্যমে বিয়ের প্রস্তাব ও সম্মতি আদান-প্রদান নিয়ে অনেকের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—শুধু লিখিতভাবে “কবুল” বললেই কি বিয়ে সম্পন্ন হয়ে যায়?

ইসলামি বিধান অনুযায়ী, শুধু অনলাইন বার্তা বা লিখিত কথোপকথনের মাধ্যমে বিয়ে সম্পন্ন হয় না। শরিয়তসম্মত বিয়ের জন্য নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করা আবশ্যক।

বিয়ের ক্ষেত্রে মূল শর্ত হলো—পাত্র ও পাত্রী বা তাদের অনুমোদিত অভিভাবককে একই বৈঠকে উপস্থিত থেকে ইজাব (প্রস্তাব) ও কবুল (গ্রহণ) সম্পন্ন করতে হবে। অনলাইন মাধ্যমে এই শারীরিক উপস্থিতি নিশ্চিত না হওয়ায় তা বৈধ বিয়ের অন্তর্ভুক্ত হয় না।

এছাড়া বিয়ের জন্য সাক্ষীর উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, কমপক্ষে দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ অথবা একজন পুরুষ ও দুইজন নারী সাক্ষী থাকতে হবে, যারা সরাসরি বিয়ের ইজাব-কবুল প্রত্যক্ষ করবেন।

এ বিষয়ে হাদিসে এসেছে—অভিভাবক ও দুইজন ন্যায়পরায়ণ সাক্ষী ছাড়া বিয়ে শুদ্ধ হয় না।

তবে সাক্ষী হিসেবে নির্দিষ্ট দুইজন ব্যক্তিকে আগেই ঠিক করে নেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। কোনো বৈঠকে যদি একাধিক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি উপস্থিত থাকেন এবং তারা ইজাব-কবুল প্রত্যক্ষ করেন, তাহলে তাদের মধ্য থেকেই সাক্ষীর শর্ত পূরণ হয়ে যায়।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, মসজিদ বা জনসমাবেশে বিয়ের আকদ সম্পন্ন হলে উপস্থিত মুসল্লিদের মধ্য থেকে যোগ্য ব্যক্তিরা সাক্ষী হিসেবে গণ্য হন।

সব মিলিয়ে বলা যায়, শুধুমাত্র মেসেঞ্জারে “কবুল” বলার মাধ্যমে বিয়ে সম্পন্ন হয় না। শরিয়ত অনুযায়ী নির্ধারিত শর্ত, সাক্ষী ও সরাসরি উপস্থিতি নিশ্চিত করাই বিয়ের মূল ভিত্তি।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version