জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদল কর্মী হত্যাসহ পাঁচটি পৃথক মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের জামিন বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ।

হাইকোর্ট থেকে দেওয়া জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ যে লিভ টু আপিল আবেদন করেছিল, তা খারিজ করে দেন আপিল বিভাগের বিচারপতিরা। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত বেঞ্চ মঙ্গলবার এ আদেশ দেন।

এর আগে, যাত্রাবাড়ীর হত্যা মামলা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে রায় জালিয়াতির অভিযোগে দায়ের করা চার মামলায় গত ৮ মার্চ হাইকোর্ট খায়রুল হককে জামিন দেন। এছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা আরেক মামলায় ১১ মার্চ তিনি জামিন লাভ করেন।

পরে এসব জামিন স্থগিতের আবেদন জানিয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে যায়। আবেদনগুলো প্রথমে চেম্বার আদালতে ওঠে এবং পরে নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য নির্ধারিত হয়। সর্বশেষ শুনানি শেষে আদালত রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন খারিজ করে দেয়।

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ আবদুল জব্বার ভুঞা ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্যাহ আল মাহমুদ। অন্যদিকে খায়রুল হকের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকীসহ আরও কয়েকজন আইনজীবী।

রায়ের পর খায়রুল হকের আইনজীবীরা জানান, আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পাঁচটি মামলায় তার জামিন কার্যকর রয়েছে। নতুন কোনো মামলা না থাকলে তার মুক্তিতে আইনি বাধা থাকবে না।

তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই মামলাগুলোতে জামিন পাওয়ার পরও যাত্রাবাড়ী ও আদাবর থানার আরও দুটি হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, খায়রুল হক ২০১০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১১ সালের মে পর্যন্ত দেশের প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ ২০১১ সালে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের ঐতিহাসিক রায় দেন।

গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে যাত্রাবাড়ীর একটি হত্যা মামলায় তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং তখন থেকেই তিনি কারাগারে রয়েছেন।

এছাড়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংক্রান্ত রায় জালিয়াতির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি বিধিবহির্ভূতভাবে প্লট গ্রহণের অভিযোগেও দুদক তার বিরুদ্ধে মামলা করে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version