যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছাতে পারেন বলে জানা গেছে।
পাকিস্তানের সরকারি সূত্র জানিয়েছে, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনা শেষে এই সফরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সফরটি মূলত দ্বিপাক্ষিক হলেও এতে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোও গুরুত্ব পাবে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ইসলামাবাদ সফরের পর আরাগচি মস্কো ও মাস্কাটেও যাবেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই সফর যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংলাপ পুনরায় শুরু করার পথ তৈরি করতে পারে।
এর আগে দুই দেশের আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপ করে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে সীমাবদ্ধতা আরোপ করে, ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
তবে নতুন করে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ায় আলোচনায় ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কারিগরি দল ইসলামাবাদে পৌঁছেছে বলেও জানা গেছে।
এই পরিস্থিতিতে ইসলামাবাদে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে জনজীবন ও শিক্ষা কার্যক্রমেও।
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের এই মধ্যস্থতা সফল হলে তা শুধু আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাই নয়, বরং দেশটির আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অবস্থানকেও শক্তিশালী করবে। তবে পরমাণু কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা এবং সমুদ্রপথের নিরাপত্তার মতো জটিল ইস্যুগুলো এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
