গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের এক মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন মাসরুর আনোয়ার চৌধুরী। তিনি দাবি করেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারতের প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi-বিরোধী পোস্ট দেওয়ার কারণেই তাকে আটক ও গুম করা হয়েছিল।
বুধবার ট্রাইব্যুনালে তার জেরা সম্পন্ন হয়। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জেরার সময় এই অভিযোগের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন এবং ভিন্ন ব্যাখ্যা তুলে ধরেন।
জেরায় রাষ্ট্রনিযুক্ত প্রতিরক্ষা আইনজীবীরা দাবি করেন, এই ঘটনার জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী Sheikh Hasina দায়ী নন। তবে সাক্ষী মাসরুর আনোয়ার চৌধুরী এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন।
শুনানি শেষে পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ৪ মে দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল-১। বিচারপতি Golam Mortuza Majumder-এর নেতৃত্বে গঠিত বিচারিক প্যানেলে আরও রয়েছেন বিচারপতি Shafiul Alam Mahmud।
এর আগে ১৯ এপ্রিল সাক্ষ্য দেন মাসরুর আনোয়ার, আর ২০ এপ্রিল শুরু হয় তার জেরা। বুধবার ছিল জেরা কার্যক্রমের শেষ দিন।
জেরার সময় তাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। সাক্ষীর ভাষ্য অনুযায়ী, তাকে তার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টটি দেখানো হয়েছিল। তবে সেটি মুছে ফেলতে বলা হয়নি। তিনি আরও জানান, তার অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ডসহ অন্যান্য তথ্য নিয়ে নেওয়া হয়, যা আর ফেরত দেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা দাবি করেন, তাকে জঙ্গি-সম্পর্কিত সন্দেহে আটক করা হয়েছিল। তবে সাক্ষী এ দাবি অস্বীকার করে বলেন, তার সঙ্গে কোনো জঙ্গি সংগঠনের সংশ্লিষ্টতা নেই।
জেরার এক পর্যায়ে তাকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মসজিদ নির্মাণের জন্য অর্থ সংগ্রহের বিষয়েও প্রশ্ন করা হয়। এ বিষয়ে তিনি জানান, পরিচিতজনদের সহায়তায় সীমিত পরিসরে এই কাজ করা হয়েছিল এবং এর সঙ্গে অন্য কোনো কার্যক্রম জড়িত ছিল না।

