প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, দেশের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের ফল খুব শিগগিরই দৃশ্যমান হবে এবং জনগণ সুখবর পাবে।

সোমবার বিকেলে বগুড়া শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে যেমন কিছু গোষ্ঠী মুক্তিযুদ্ধের সময় জনগণকে বিভ্রান্ত করেছিল, তেমনি বর্তমানেও তারা নানা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করছে। দেশের মানুষকে এসব বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১৬ বছরে মানুষের ভোটাধিকার ও বাকস্বাধীনতা হরণ করা হয়েছিল। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে এবং স্বৈরাচারী শাসনের পতন হয়।

তিনি আরও বলেন, পূর্ববর্তী সরকার বড় বড় প্রকল্পের আড়ালে ব্যাপক দুর্নীতি করেছে এবং বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে জনগণের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ করছে।

সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ড চালু করা হয়েছে, কৃষি ঋণের সুদসহ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত মওকুফ করা হয়েছে এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ ধর্মগুরুদের ভাতা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের কাজ শুরু হয়েছে।

তিনি জানান, কম খরচে বিদেশে জনশক্তি পাঠানোর জন্য বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং এ বিষয়ে দ্রুত সুখবর আসবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নে কাজ করছে। জুলাই সনদ অনুযায়ী সব প্রতিশ্রুতি পূরণ করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বিরোধী দলগুলোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, তারা উন্নয়ন বা জনগণের কল্যাণ নিয়ে কথা না বলে বিভ্রান্তি ছড়াতে ব্যস্ত।

বগুড়ার উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি জানান, বগুড়া-সিরাজগঞ্জ সরাসরি রেললাইন নির্মাণ, বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং সেখানে কৃষিসহ বিভিন্ন বিভাগ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ

জনসভা শেষে প্রধানমন্ত্রী শহরের স্টেশন রোডে বায়তুর রহমান সেন্ট্রাল মসজিদে মাগরিবের নামাজ আদায় করেন। পরে তিনি বগুড়া প্রেস ক্লাবের নতুন ভবন এবং মসজিদের পুনর্নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন।

এর আগে গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ীতে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি। সেখানে প্রতীকীভাবে মাটি কেটে চৌকিদহ খালের খনন কাজ শুরু করেন।

পৈতৃক ভিটা পরিদর্শন

এদিন বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তার পৈতৃক বাড়ি ‘জিয়াবাড়ি’ পরিদর্শন করেন। দীর্ঘদিন পর সেখানে গিয়ে পরিবারের স্মৃতিবিজড়িত স্থান ঘুরে দেখেন তিনি। তার সঙ্গে ছিলেন ডা. জুবাইদা রহমান।

শিশুদের ভালোবাসা

গাবতলীর পথে এক শিশু প্রধানমন্ত্রীকে টাকার মালা পরিয়ে স্বাগত জানায়। তিনি মালাটি গ্রহণ করে আবার শিশুটির গলায় পরিয়ে দেন এবং অন্য এক শিশুকে স্নেহভরে আশীর্বাদ করেন।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version