যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ২২ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগেই মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ লক্ষ্যে অতিরিক্ত কয়েক হাজার সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পেন্টাগন।
মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশসহ একটি বড় নৌবহর চলতি মাসের শেষ দিকে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছাবে। এই বহরে প্রায় ৬ হাজার সেনাসদস্য থাকবেন। পাশাপাশি বক্সার অ্যাম্ফিবিয়াস রেডি গ্রুপের আওতায় আরও প্রায় ৪ হাজার ২০০ নৌ ও মেরিন সেনা যুক্ত হবে। বর্তমানে ওই অঞ্চলে প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে, নতুন বাহিনী তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সামরিক সক্ষমতা আরও বাড়াবে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, পরিস্থিতি দ্রুতই শান্ত হতে পারে। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরান যদি সমঝোতার পথে এগোয়, তাহলে সংঘাতের অবসান ঘটানো সম্ভব এবং এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
তবে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সফল হয়নি। ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত দীর্ঘ সময়ের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ফলপ্রসূ না হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে নৌ-অবরোধের ঘোষণা দেয়।
অন্যদিকে, এই পদক্ষেপকে যুদ্ধবিরতির পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেছে ইরান। দেশটির সামরিক কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি অবরোধ অব্যাহত রাখে এবং ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজ বা তেল পরিবহনে বাধা সৃষ্টি করে, তাহলে তার পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেওয়া হবে।
ইরানের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, প্রয়োজনে পারস্য উপসাগর, ওমান সাগর এবং লোহিত সাগর এলাকায় বাণিজ্যিক নৌ চলাচল ব্যাহত করা হতে পারে।
সব মিলিয়ে, যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা নতুন করে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।

