মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের বন্দরগুলোকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপে সরাসরি অংশ নিচ্ছে না যুক্তরাজ্য। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্রিটিশ সরকার এই অবরোধ কার্যক্রমে নিজেদের যুদ্ধজাহাজ বা সৈন্য মোতায়েনের পরিকল্পনা করেনি।

তবে এর অর্থ এই নয় যে অঞ্চলটি থেকে পুরোপুরি সরে যাচ্ছে লন্ডন। জানা গেছে, যুক্তরাজ্যের মাইন অপসারণকারী নৌযান এবং ড্রোন প্রতিরোধ ব্যবস্থা আগের মতোই সক্রিয় থাকবে, যাতে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে নিরাপত্তা বজায় থাকে।

ব্রিটিশ সরকারের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌ চলাচল নিশ্চিত করার পক্ষে। তার মতে, এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ খোলা রাখা বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত জরুরি, যা সরাসরি বিশ্ব অর্থনীতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে জড়িত।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে কৌশলগতভাবে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে পদক্ষেপ নিচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump ঘোষণা দিয়েছেন, নির্দিষ্ট সময় থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে প্রবেশ ও প্রস্থানকারী জাহাজের ওপর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হবে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ব্যবস্থা সব দেশের জাহাজের ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য হবে। তবে ইরান ব্যতীত অন্যান্য দেশের জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়া হবে না বলে দাবি করা হয়েছে।

এদিকে, Islamic Revolutionary Guard Corps সতর্ক করে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির দিকে অগ্রসর হওয়া যেকোনো বিদেশি সামরিক জাহাজকে তারা সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করবে। তাদের মতে, এটি চলমান যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতির লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হতে পারে এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ Strait of Hormuz কেন্দ্র করে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version