সিলেটের ওসমানীনগরে চুরি করা গরুর মাংস দিয়ে ইফতার আয়োজনের অভিযোগে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গরুর মালিককে টাকা পরিশোধ করে বিষয়টি মীমাংসা করা হলেও, ঘটনাটি ঘিরে সমালোচনার ঝড় বইছে।

ঘটনাটি ঘটে গত মঙ্গলবার, ওসমানীনগরের পশ্চিম পৈলনপুর ইউনিয়নের গলমুখাপন গ্রামে। ওইদিন স্থানীয় একটি ইফতার মাহফিলে রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গসহ কয়েক গ্রামের প্রায় সহস্রাধিক রোজাদার অংশগ্রহণ করেন।

জানা যায়, গলমুখাপন গ্রামের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ইউনাইটেড গলমুখাপন ট্রাস্ট’-এর উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। আয়োজনের দায়িত্বে ছিলেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা আহমদ মধু ও সাধারণ সম্পাদক বুরহান মিয়া।

ইফতারের আগের দিন একই গ্রামের নাজমুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির একটি গরু মাঠ থেকে নিখোঁজ হয়। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও গরুটির কোনো সন্ধান মেলেনি।

এদিকে যুক্তরাজ্য প্রবাসী আহমদ মধু ইফতারের জন্য তার বাড়ির কেয়ারটেকার সাঈদীকে তিনটি গরু কেনার টাকা দেন। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, কেয়ারটেকার গরু না কিনে নিখোঁজ হওয়া গরুটিই ধরে এনে জবাই করেন এবং সেই মাংস দিয়েই ইফতার আয়োজন সম্পন্ন করেন।

পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার রাতে বিষয়টি জানাজানি হলে গ্রামবাসী প্রবাসীর বাড়িতে গিয়ে জবাবদিহি দাবি করেন। সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করে দেখা যায়, জবাই করা গরুটি আসলেই নাজমুল ইসলামের ছিল।

ঘটনা নিশ্চিত হওয়ার পর প্রবাসী আহমদ মধু তাৎক্ষণিকভাবে গরুর মালিককে ৭০ হাজার টাকা প্রদান করে বিষয়টি মীমাংসা করেন। তবে এই ঘটনায় বিব্রত হয়ে তিনি শুক্রবার রাতে যুক্তরাজ্যের উদ্দেশ্যে দেশ ত্যাগ করেন।

এদিকে, তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নেটিজেনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত কেয়ারটেকার সাঈদী পলাতক রয়েছেন।

ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুরশেদুল আলম ভূঁইয়া জানিয়েছেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version