গরু চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাতে সালিশে মীমাংসার পরও সকালে মসজিদের মাইকে নাম ঘোষণা হওয়ায় এক যুবক আত্মহত্যা করেছেন। ঘটনাটি এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকালে নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর উপজেলার কাশীরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের গুয়াবাড়ী গ্রামের পশ্চিম বেলপুকুর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত রোকনুজ্জামান (২৭) পেশায় একজন ফল ব্যবসায়ী। তিনি ওই গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা জহুরুল ইসলামের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল শুক্রবার রাতে একই এলাকার আব্দুল রশিদের একটি গরু চুরি হয়। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে রোকনুজ্জামান গরু চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও উভয় পক্ষের পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে রাতে সালিশ বসে। সালিশে লিখিত মুচলেকার মাধ্যমে আপস মীমাংসা হয় এবং ক্ষতিপূরণ বাবদ রোকনুজ্জামানকে ২২০০ টাকা জরিমানা করা হয়।
কিন্তু আজ শনিবার ভোর আনুমানিক সাড়ে ৬টার দিকে স্থানীয় একটি মসজিদে মাইকের মাধ্যমে রোকনুজ্জামান ও তার বাবার নাম উল্লেখ করে ঘোষণা দেওয়া হয় যে, এলাকায় ভবিষ্যতে কোনো চুরির ঘটনা ঘটলে তাদের দায়ী করা হবে। এ ঘোষণার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন রোকনুজ্জামান।
স্থানীয় ফল ব্যবসায়ী সালেক জানান, রোকনুজ্জামান খুবই নিরীহ প্রকৃতির ছেলে ছিলেন। বন্ধুদের প্ররোচনায় ভুল পথে জড়ালেও আগের রাতেই বিষয়টি মীমাংসা হয়ে যায়। কিন্তু সকালে মাইকে তাকে চোর হিসেবে ঘোষণা দেওয়ায় তিনি চরম অপমানবোধ করেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মোস্তফা হোসেন বলেন, শুক্রবার রাতে স্থানীয় প্রতিনিধি ও গণ্যমান্যদের উপস্থিতিতে লিখিতভাবে সালিশ ও আপস সম্পন্ন হয়েছিল। এরপর নতুন করে এমন ঘোষণা দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা ছিল না।
সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য রুমানা বেগম ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন।
পরিবার ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সকাল প্রায় ৭টার দিকে রোকনুজ্জামান নিজ ঘরের তীরের সঙ্গে স্ত্রীর ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।
এ ব্যাপারে আব্দুর রশিদের ভাই সাবেক ইউপি সদস্য বলেন, আমরা কী করেছি? যে গরু চুরি করেছে এটা এলাবাসীকে জানিয়েছি এতে দোষের কী?
সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম রেজা জানান, মসজিদের মাইকে ঘোষণার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং সালিশের পরও এমন প্রকাশ্য ঘোষণা দেওয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
