প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, অতীত সরকারের সময়ে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর যেসব সদস্য অন্যায়, বৈষম্য ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, তাদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি আরও বলেন, “অন্য সরকারি কর্মকর্তাদের মতো সশস্ত্র বাহিনীর বঞ্চিত সদস্যরাও ন্যায়বিচার পাবেন।”

রবিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় একটি কমিটি প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদন জমা দিলে তিনি এ মন্তব্য করেন।

২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট পর্যন্ত তিন বাহিনীর চাকরিতে বৈষম্য, বঞ্চনা ও অবিচারের শিকার হওয়া অবসরপ্রাপ্ত ও বরখাস্ত সদস্যদের আবেদন পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ দেওয়ার দায়িত্ব ছিল কমিটির ওপর।

প্রতিবেদন নিয়ে মতামত জানাতে গিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘দায়িত্ব দেওয়ার সময় ভেবেছিলাম কিছু অনিয়ম থাকতে পারে। কিন্তু আপনারা যে পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরেছেন, তা ভয়াবহ ও অকল্পনীয়।’ তিনি কমিটির সদস্যদের নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষভাবে সত্য অনুসন্ধানের জন্য ধন্যবাদ জানান।

কমিটির সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল আব্দুল হাফিজ জানান, কমিটি ৭৩৩টি অভিযোগ পেয়েছে। এর মধ্যে ৪০৫টি গ্রহণ করা হয় এবং ১১৪টি আবেদনের বিষয়ে সুপারিশ করা হয়। কিছু আবেদন কমিটির কার্যপরিধির বাইরে হওয়ায় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। ৯৯টি আবেদনে শৃঙ্খলাভঙ্গ, সাজা মওকুফ ও নৈতিক স্খলনের বিষয় পাওয়া গেছে।

তদন্তে দেখা যায়, কয়েকজন অফিসারকে আত্মীয়-স্বজনের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা বা জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে বেআইনিভাবে ১ থেকে ৮ বছর পর্যন্ত গুম করে রাখা হয়েছিল। একজন অবসরপ্রাপ্ত অফিসারকে জঙ্গি নাটক সাজিয়ে হত্যা করা হয় এবং তাঁর স্ত্রীকে শিশুসহ ছয় বছর কারাগারে রাখা হয়।

এ ছাড়া বিডিআর হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় পাঁচজন অফিসারের বিরুদ্ধে ভুয়া মামলা দিয়ে নির্যাতন করা হয়েছিল। কেউ কেউ বিনা অভিযোগে বরখাস্ত হন; কারও ধর্মীয় আচরণকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে জঙ্গি ট্যাগ লাগিয়ে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়।

কমিটি সেনাবাহিনীর ১১৪ জন বঞ্চিত কর্মকর্তাকে স্বাভাবিক অবসর, পদোন্নতি, বকেয়া সুবিধা ও চারজনকে পুনর্বহালের সুপারিশ করেছে। নৌবাহিনীর ১৯ জন এবং বিমান বাহিনীর ১২ জন সদস্যের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সুপারিশ করা হয়েছে।

আবেদনকারীদের মধ্যে সেনাবাহিনী থেকে ১২৫ জন, নৌবাহিনী থেকে ৫১ জন এবং বিমান বাহিনী থেকে ২৫ জন আবেদন করেন।

বৈঠকে মো. আশরাফ উদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক উপস্থিত ছিলেন।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version