জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় কিউশু দ্বীপে অবস্থিত সাকুরাজিমা আগ্নেয়গিরিতে ভয়াবহ অগ্নুৎপাত শুরু হয়েছে। রোববার রাত থেকে সক্রিয় হয়ে ওঠা এ আগ্নেয়গিরি ব্যাপক ছাই, উত্তপ্ত লাভা ও ঘন ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী আকাশে নিক্ষেপ করছে, যা প্রায় ৪ হাজার ৪০০ মিটার (প্রায় ১৪ হাজার ৪০০ ফুট) উচ্চতা পর্যন্ত উঠে গেছে।
দেশটির স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, মিনামিদাকে ক্রেটার থেকে ছিটকে পড়া ছাই দ্রুত আকাশে ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে কাগোশিমা, কুমামতো ও মিয়াজাকি প্রিফেকচারসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি এলাকায় ছাই পড়ার সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
স্থানীয় সময় রোববার রাত ১২টা ৫৭ মিনিটে সাকুরাজিমা আগ্নেয়গিরিতে প্রথম অগ্নুৎপাত শুরু হয়। এরপর রাত ২টা ২৮ মিনিটে আরেকটি অগ্নুৎপাত ঘটে; যা তুলনামূলকভাবে ছোট ছিল। তবে এই অগ্নুৎপাতে প্রায় ৩ হাজার ৭০০ মিটার পর্যন্ত ছাই ছিটকে যায়।
সাকুরাজিমা আগ্নেয়গিরিতে গত ১৩ মাসের মধ্যে এই প্রথম ছাই ৪ কিলোমিটারের ওপরে উঠেছে; যা সাম্প্রতিক সব অগ্নুৎপাতের তুলনায় অনেক বেশি তীব্র। বিস্ফোরণের শক্তিতে উত্তপ্ত লাভা প্রায় ১ দশমিক ২ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত ছিটকে পড়ে।
কিউশুতে ভয়াবহ এই অগ্নুৎপাত হলেও এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনও ঘটনা ঘটেনি এবং বিপজ্জনক আগ্নেয়গ্যাস দেখা যায়নি।
জাপানের আবহাওয়া অধিদপ্তর অগ্নুৎপাতের ঘটনায় তিন নম্বর সতর্ক সংকেত জারি করেছে। চলমান অগ্নুৎপাত ও সম্ভাব্য ঝুঁকির কারণে আগ্নেয়গিরির আশপাশে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
জাপানের সবচেয়ে সক্রিয় আগ্নেয়গিরিগুলোর একটি সাকুরাজিমাতে নিয়মিত ভিন্ন ভিন্ন মাত্রায় অগ্নুৎপাত হয়। অতীতে এর অগ্নুৎপাত দক্ষিণ কিউশুর ভূপ্রকৃতি বদলে দিয়েছে এবং লাভার স্রোতে সাকুরাজিমার পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে ওসুমি উপদ্বীপের মধ্যে স্থলপথ তৈরি হয়েছে।
কাগোশিমা শহরের কাছে আগ্নেয়গিরির অবস্থান হওয়ায় সেখানকার বাসিন্দারা সবসময় সতর্ক থাকেন। সাম্প্রতিক অগ্নুৎপাতে কাগোশিমা বিমানবন্দরে ঘন ছাইয়ের কারণে বহু ফ্লাইট বাতিল করা হয়।
