নিজের প্রয়াত পিতা মির্জা রুহুল আমিনকে স্মরণ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলামগীর বলেছেন, ঠাকুরগাঁও জেলার যা কিছু আধুনিক, এর শুরু আমার বাবার হাতে। এই জেলার প্রতিটি সৎ মানুষ জানে আমার বাবার কথা। আমার বাবা মারা যাওয়ার পরে তার স্মৃতি রক্ষার জন্য নিয়ে যে ফাউন্ডেশন হয়, তার নেতৃত্বে ছিলেন ঠাকুরগাঁওয়ের সব নামকরা রাজনীতিবিদ। ১৯৯৭ সালে বাবার মৃত্যুতে সরকারি শোক প্রকাশ করা হয়।

সোমবার (১০ নভেম্বর) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তিনি এ কথা লেখেন।

পোস্টে মির্জা ফখরুল লেখেন, আমি গত দুদিন ধরে ঠাকুরগাঁওয়ে আছি। কিছু কথা বলা খুব জরুরি আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ ও তরুণ প্রজন্মের জন্য। এসব কথা বলার কখনো প্রয়োজন মনে করিনি। জীবনের এই প্রান্তে দাঁড়িয়ে যখন দেখি সমাজে কিছু মানুষ নিজেদের স্বার্থে মিথ্যার চাষ করছে, তখন বলা আরও জরুরি।

পিতার মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের স্মৃতিচারণ করে তিনি লেখেন, আমার আব্বা মরহুম মির্জা রুহুল আমিন ১৯৭১-এ মার্চে ২৭ তারিখ আমার নানাবাড়ি যান আমার দুই বোন ও মাকে নিয়ে। তারপর এপ্রিলে চলে যান ভারতের ইসলামপুরে। রিফিউজি ক্যাম্পে ছিলেন যুদ্ধের প্রায় পুরোটা সময়। ৩ ডিসেম্বর ঠাকুরগাঁও স্বাধীন হয়। আমার বাবা ঠাকুরগাঁও ফিরে আসেন তখনই। যখন ফিরে আসেন, দেখেন সব লুট হয়ে গেছে। আমার মরহুম মা তার গয়না বিক্রি করেন। আমি যোগ দিই অর্থনীতি শিক্ষকতায়। প্রথম বেতন তুলে দিই আম্মার হাতে। আল্লাহর রহমতে জীবন চলে যায়। ১৯৭১-এর পরে বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষ এভাবেই ধ্বংসস্তূপ থেকে তৈরি করেছে জীবন।

গত ৫৪ বছরে নিজের বাবার নামে কোথাও কোনো মামলা হয়নি জানিয়ে পোস্টে মির্জা ফখরুল আরও লেখেন, আমার বাবা সম্বন্ধে মিথ্যাচার শুরু হয় গত আওয়ামী রেজিমে এবং দুঃখজনকভাবে গত এক বছর ধরে একটি গোষ্ঠী, যারা নিজেদের জুলাইয়ের আন্দোলনের অংশীদার মনে করে, তারাও এই মিথ্যাচারে অংশ নিচ্ছে। মিথ্যা, গুজব ও অপবাদ সমাজ ধ্বংস করে।

নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশে মিথ্যার চাষ ছেলেমেয়েরা করবে না—এমনটি প্রত্যাশা করে তিনি লেখেন, আমি আমার সারাজীবন এ দেশ ও জাতির জন্য দিয়েছি। গত বছর জুলাইয়ে আমাদের ছেলেমেয়েরা বাংলাদেশকে আশা দেখিয়েছে। আমি আশা করব, এরা সত্যের পথে থাকবে, প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে মেধা, বুদ্ধিমত্তা, সততা আর পলিসি দিয়ে। শঠতা আর মিথ্যা দিয়ে পপুলিজম কেনা যায়, কিন্তু দেশ গড়া যায় না।

সবশেষে পবিত্র কোরআনের সুরা হুজরাতের একটি আয়াত উল্লেখ করে সবাইকে আহ্বান জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘হে মুমিনগণ, তোমরা অধিক অনুমান থেকে দূরে থাকো। নিশ্চয় কোনো কোনো অনুমান তো পাপ।’ আসুন, আমরা আমাদের অভিজ্ঞতা, দেশপ্রেম আর নতুন প্রজন্মের সাহস ও দেশপ্রেম দিয়ে তৈরি করি একটি মর্যাদাপূর্ণ সৎ মানবিক বাংলাদেশ।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version