পারিবারিকভাবে আয়োজন করা হয়েছিল বিয়ে। ধুমধামের মধ্যেই বরযাত্রী নিয়ে কনেকে আনা হয় বরের বাড়িতে। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাতে নবদম্পতিকে পাঠানো হয় বাসরঘরে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিণতিতে পরের দিন সকালে আখক্ষেতের বেড়ার বাঁশে ফাঁস দেওয়া অবস্থায় বরের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ঘটনাটি ঘটেছে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়নের পিসনাইল গ্রামে। শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) সকালে স্থানীয়রা মরদেহটি দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন।

সকাল ৭টার দিকে এলাকাবাসী আখক্ষেতের বেড়ার সঙ্গে মরদেহ ঝুলতে দেখে পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। পরে তারা মরদেহটি উদ্ধার করে বাড়ির আঙিনায় এনে রাখেন। বেলা ১১টার দিকে সালথা থানা পুলিশ সুরতহাল শেষে ফরিদপুর মেডিকেলে পাঠায়।

সদ্যবিবাহিত ওই ব্যক্তির নাম মো. জামাল ফকির (২৮)। তিনি বল্লভদী ইউনিয়নের পিসনাইল গ্রামের বাসিন্দা মো. রোজব ফকিরের ছেলে। চার ভাই ও দুই বোনের মধ্যে জামাল ছিলেন সেজো। বিয়ের রাতেই তার এমন মৃত্যু নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে। এলাকাবাসীর ধারণা, আখক্ষেতের বেড়ার বাঁশের সঙ্গে ঝুলে কারও মৃত্যু হওয়া অসম্ভব।

জামালের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে পারিবারিকভাবে পাশের ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার পুরাপাড়া ইউনিয়নের ঘোনাপাড়া গ্রামের মো. লিটন ভূঁইয়ার মেয়ে রোকেয়া আক্তার (২৩)-এর সঙ্গে বিয়ে হয় জামাল ফকিরের। বিকেলে কনেকে নিয়ে বাড়িতে আসেন তিনি। রাতে নবদম্পতি বাসরঘরে শুয়ে ছিলেন।

শুক্রবার সকালে জামালের বাড়ি থেকে আধা কিলোমিটার দূরে পিসনাইল গ্রামের মাঠে একটি আখক্ষেতের বেড়ার বাঁশের সঙ্গে গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় তার মরদেহ পাওয়া যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা গিয়ে মরদেহটি নামিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসেন।

স্থানীয়রা জানান, গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় আখক্ষেতের বেড়ার বাঁশের সঙ্গে মরদেহটি যেভাবে ঝুলে ছিল, তাতে মনে হয় না সে আত্মহত্যা করেছে। কারণ বাঁশের আড়ার উচ্চতা ছিল দুই থেকে আড়াই ফুট। সেখানে ঝুলে আত্মহত্যা করলে পা মাটিতে ঠেকে যেত।

নিহতের সদ্যবিবাহিতা স্ত্রী রোকেয়া আক্তার বলেন, সকালে মানুষের চিৎকার শুনে দরজা খুলতে গেলে দেখি দরজার বাইরে শিকল লাগানো। পরে প্রতিবেশীরা দরজা খুলে দিলে দেখি আমার স্বামীর মরদেহ জমির মধ্যে পড়ে আছে।

নিহতের বড় ভাই জালাল ফকির বলেন, আমার ভাইয়ের মৃত্যুর বিষয়টি খুবই রহস্যজনক। সে কারও সঙ্গে কোনো শত্রুতা করেনি। ঠিক কী কারণে এমন ঘটনা ঘটল, বুঝে উঠতে পারছি না।

সালথা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতাউর রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার ওই ছেলেটি বিয়ে করেন। রাতে বাসরঘরে নতুন বউয়ের সঙ্গে ছিলেন। সকালে বাড়ির পাশে একটি আখক্ষেতের বেড়ার বাঁশের আড়া থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা।

তিনি আরও বলেন,মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version