শীতের মৌসুম শুরু হতে এখনো কিছুটা সময় বাকি। তবে এরই মধ্যে উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে অনুভূত হচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। দিনের বেলায় রোদের তাপ থাকলেও বিকেলের পর থেকেই বদলে যাচ্ছে আবহাওয়া। সন্ধ্যা নামলে বইছে ঠান্ডা বাতাস, আর রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে শীতের অনুভূতি। ভোরে কুয়াশার চাদরে ঢেকে যাচ্ছে চারপাশ। এমন পরিস্থিতিতে জেলার তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৫ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারে এ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৯ শতাংশ। এর আগে একই দিন সকাল ৬টায় তাপমাত্রা ছিল ১৫ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার বিকেল ৩টায় পঞ্চগড়ে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৩ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দিনের সর্বোচ্চ ও রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান থাকায় আবহাওয়ায় ভিন্নধর্মী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হেমন্তের শুরু থেকেই পঞ্চগড়ে তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। দুপুরে রোদের তাপ থাকলেও বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আবহাওয়া ঠান্ডা হয়ে আসে। সন্ধ্যার পর শীতল বাতাসের প্রভাব বাড়ে এবং গভীর রাতে শীতের অনুভূতি আরও তীব্র হয়।
জেলাজুড়ে সন্ধ্যার পর কুয়াশা পড়তে দেখা যাচ্ছে। রাত যত গভীর হচ্ছে, কুয়াশার ঘনত্বও তত বাড়ছে। ভোরে চারপাশ কুয়াশায় ঢেকে থাকলেও সূর্য ওঠার পর ধীরে ধীরে তা কেটে যায়। এরপর দিনের তাপমাত্রা আবার বাড়তে থাকে।
পঞ্চগড় সদর উপজেলার ইজিবাইকচালক আজিজুল ইসলাম জানান, কয়েক দিন ধরে সকালে ঠান্ডার অনুভূতি বেড়েছে। আগে যে পরিমাণ শীত অনুভূত হতো না, এখন সকালে গাড়ি নিয়ে বের হওয়ার সময় হালকা গরম কাপড় সঙ্গে রাখতে হচ্ছে। ঠান্ডা বাতাসের কারণে সকালে গাড়ি চালাতেও কিছুটা অসুবিধা হচ্ছে।
পঞ্চগড় শহরের বাসিন্দা মকছেদুল ইসলাম বলেন, শীতের পুরো মৌসুম শুরু হতে আরও কয়েক সপ্তাহ বাকি থাকলেও এরই মধ্যে ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। সন্ধ্যার পর মোটরসাইকেল চালাতে গরম পোশাক প্রয়োজন হচ্ছে। রাতে পাতলা কম্বল ব্যবহার করতে হচ্ছে। প্রায় ১০ থেকে ১৫ দিন আগেই তিনি ফ্যান চালানো বন্ধ করে দিয়েছেন।
এদিকে আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রা আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। বিশেষ করে বৃষ্টিপ্রবণ পরিস্থিতি কেটে গেলে শীতের অনুভূতি আরও বাড়তে পারে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় জানান, কয়েক দিন ধরে আকাশ পরিষ্কার থাকায় হিমালয় থেকে আসা ঠান্ডা বাতাসের প্রভাবে পঞ্চগড়ে তাপমাত্রা কমছে। এর ফলে জেলাজুড়ে শীতের আমেজ অনুভূত হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ৩১ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বরের মধ্যে বৃষ্টিপ্রবণ পরিস্থিতি কেটে যাওয়ার পর পঞ্চগড়ে শীতের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে।
