বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় অর্ণব ক্রমেই শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, অনুকূল পরিস্থিতি পেলে এটি অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওডিশা রাজ্যের মধ্যবর্তী উপকূল দিয়ে ঘূর্ণিঝড়টির স্থলভাগে প্রবেশের সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন আবহাওয়া ও জলবায়ুবিষয়ক গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে ঘূর্ণিঝড়টির সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরেন কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের এই গবেষক।
তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি গত ২৪ ঘণ্টায় শক্তি সঞ্চয় করে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী পরিচালিত জয়েন্ট টাইফুন ওয়ার্নিং সেন্টারের সর্বশেষ তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি ঘূর্ণিঝড়টির নাম অর্ণব বলে উল্লেখ করেন। পূর্বনির্ধারিত এই নামটি প্রস্তাব করেছিল বাংলাদেশ।
গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ জানান, যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার জিপিএম এবং জাপানের হিমাওয়ারি-৯ কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে পাওয়া ছবি বিশ্লেষণ করে ঘূর্ণিঝড়টির অবস্থান সম্পর্কে ধারণা পাওয়া গেছে। তাঁর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টার দিকে ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্র ছিল প্রায় ১৬ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ ও ৮৯ দশমিক ১ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে।
ওই সময় ঘূর্ণিঝড়টির চারপাশে বাতাসের গড় গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ৬৫ কিলোমিটার। দমকা হাওয়ার সঙ্গে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ৮৩ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছানোর তথ্যও তুলে ধরেন তিনি।
ঘূর্ণিঝড়টির সম্ভাব্য শক্তি বৃদ্ধির বিষয়ে গবেষক জানান, অনুকূল পরিস্থিতি বজায় থাকলে এটি সর্বোচ্চ শক্তি অর্জন করতে পারে। তাঁর পূর্বাভাস অনুযায়ী, বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০ থেকে ১৩০ কিলোমিটারে পৌঁছালে অর্ণব অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত ওঠার আশঙ্কাও রয়েছে।
স্থলভাগে আঘাতের সম্ভাব্য সময় ও স্থান সম্পর্কে মোস্তফা কামাল পলাশের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বুধবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে ঘূর্ণিঝড়টি ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওডিশা রাজ্যের মধ্যবর্তী উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
তবে ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ, শক্তি এবং স্থলভাগে আঘাতের সময় আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যেতে পারে। তাই এ বিষয়ে সর্বশেষ সরকারি আবহাওয়া বুলেটিন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সতর্কবার্তা অনুসরণ করা জরুরি।
