ইরানকে ঘিরে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বাড়ার সম্ভাবনার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদার করছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি প্রায় ৯ হাজার অতিরিক্ত সেনা এবং তৃতীয় একটি বিমানবাহী রণতরী ওই অঞ্চলে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা।
যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক তৎপরতার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত আরও জটিল পরিস্থিতির দিকে যেতে পারে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)। বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য নতুন সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে ওয়াশিংটনে আলোচনা চলার সময়ই অতিরিক্ত সেনা ও যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর বিষয়টি সামনে এসেছে।
আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে ইরানকে ঘিরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
এর আগে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার পর ইরানের বিরুদ্ধে আবারও সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে নির্বাচনী প্রচারণার সময় তিনি ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ফলে তাঁর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে নানা প্রশ্ন উঠছে।
এর মধ্যেই ইসরায়েলগামী একটি ফ্লাইটকে ঘিরে আরেকটি ঘটনা আলোচনায় এসেছে। বুধবার ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইটে থাকা সহকারী পাইলট তাঁর ক্যাপ্টেনকে ছুরিকাঘাত করে বিমানটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটির সঙ্গে ইরানের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের মুখে বৃহস্পতিবার ট্রাম্প জানান, প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তিনি এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প জানান, তিনি যে তথ্য পেয়েছেন তার ভিত্তিতে ইরানের সঙ্গে ঘটনার যোগসূত্র থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না বলেও তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
ট্রাম্প আরও বলেন, তদন্তে যদি ওই ঘটনার সঙ্গে ইরানের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র এর জবাবে কঠোর সামরিক ব্যবস্থা নিতে পারে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, ফ্লাইদুবাইয়ের ঘটনার সন্দেহভাজন ব্যক্তি ‘ইসলামপন্থী উগ্র মতাদর্শে’ প্রভাবিত ছিলেন। তবে তাঁর এই দাবির পক্ষে সাক্ষাৎকারে বিস্তারিত কোনো প্রমাণ বা তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
সব মিলিয়ে, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি, মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন এবং তৃতীয় বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর পরিকল্পনা নতুন করে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। তবে সম্ভাব্য পরবর্তী মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
