কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করা হয়েছে। এখন থেকে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পালন করবেন সদর দক্ষিণ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজিব আহমেদ।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে কুমিল্লা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অপ্রতিম হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলাটির তদন্ত শুরু করেছিলেন সদর দক্ষিণ মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম। পরে তদন্তের দায়িত্ব থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজিব আহমেদের কাছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এসআই সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, মামলার প্রয়োজনীয় নথিপত্র নতুন তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। পরবর্তী সময়ে তদন্তের সব কার্যক্রম রাজিব আহমেদের নেতৃত্বেই পরিচালিত হবে।
নতুন তদন্ত কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ বলেন, পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তনের নির্দেশনা এসেছে। মামলার নথিপত্র হাতে পাওয়ার পর তদন্তের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করবেন তিনি। দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়ার চেষ্টা করবেন বলেও জানান এই কর্মকর্তা।
যেভাবে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সামনে আসে

পুলিশ ও মামলার সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে বের হওয়ার পর কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকা থেকে নিখোঁজ হন ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম।
পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ এবং নিহতের মোবাইল ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়।
এ ঘটনায় সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫) ও মো. কামরুল হাসান (১৬) নামে তিনজনকে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া মো. সিয়াম (১৯) নামে আরও একজনকে সংশ্লিষ্টতার সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সিয়াম ছাড়া গ্রেপ্তার হওয়া অপর তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় আদালতের নির্দেশে ফাহাদ ও কামরুলকে গাজীপুরের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে তুহিন ও সিয়াম বর্তমানে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন।
নতুন তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব গ্রহণের পর মামলার তদন্ত কোন পর্যায়ে এগোয় এবং আদালতে অভিযোগপত্র কবে দাখিল করা হয়, সেদিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্টদের।