এসএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে ভুলের ঘটনায় যশোর শিক্ষা বোর্ডের ১ হাজার ৬৮৪ জন প্রধান পরীক্ষক ও পরীক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হচ্ছে। পুনর্নিরীক্ষণের পর বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তনের বিষয়টি পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকদের শনাক্ত করা হয়েছে।
বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, পুনর্নিরীক্ষণের পর ৩৮০ জন শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করেছে। পাশাপাশি ১ হাজার ৩০৪ জনের গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে এবং বিভিন্ন গ্রেড থেকে উন্নীত হয়ে নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭৫২ জন।
যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম হোসেন আলী জানান, খাতা মূল্যায়নে যেসব পরীক্ষকের ভুল বা গাফিলতির কারণে ফলাফলে পরিবর্তন এসেছে, তাদের ভুলের ধরন ও মাত্রা যাচাই করা হচ্ছে। এরপর পরীক্ষকদের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নির্ধারণ করা হবে।
তিনি বলেন, দায়িত্বে অবহেলা বা মূল্যায়নে ভুলের বিষয়টি কোনোভাবেই উপেক্ষা করা হবে না। প্রস্তাবিত ব্যবস্থার মধ্যে পরীক্ষকদের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য উত্তরপত্র মূল্যায়নের দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা এবং প্রশ্নপত্র প্রণয়নের কাজেও না রাখার বিষয় রয়েছে। শৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকের পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
পুনর্নিরীক্ষণে বদলে গেল হাজারো ফল
চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার মূল ফল প্রকাশ করা হয় ১০ আগস্ট। এরপর কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের সুযোগ দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ে যশোর শিক্ষা বোর্ডে ২৮ হাজার ৮৬২ জন শিক্ষার্থী মোট ৭৪ হাজার ৭১৭টি পত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করে।
পুনর্নিরীক্ষণের পর দেখা যায়, ৩৮০ জন শিক্ষার্থী আগের ফলাফলে অকৃতকার্য থাকলেও নতুন ফলাফলে উত্তীর্ণ হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন গ্রেডের ১ হাজার ৩০৪ জন শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তিত হয়েছে। এর মধ্যে নতুন করে ৭৫২ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।
বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, এবার পুনর্নিরীক্ষণের ক্ষেত্রে উত্তরপত্রগুলো আরও বিস্তারিতভাবে যাচাই করা হয়েছে। ফলাফলে পরিবর্তনের ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করে যেসব পরীক্ষকের মূল্যায়নে ত্রুটি পাওয়া গেছে, তাদের তালিকা করা হয়েছে।
দুই বছর খাতা দেখার সুযোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত
সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভুল মূল্যায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১ হাজার ৬৮৪ জন প্রধান পরীক্ষক ও পরীক্ষককে আগামী দুই বছর এসএসসি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের দায়িত্ব না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। তবে শৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকের পর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
বোর্ড কর্তৃপক্ষের মতে, পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল নির্ভুলভাবে প্রস্তুত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন শিক্ষার্থীর পাস-ফেল কিংবা গ্রেডের ক্ষেত্রে মূল্যায়নের সামান্য ভুলও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ভবিষ্যতে উত্তরপত্র মূল্যায়নে দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকদের জবাবদিহির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
