ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণ এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে ভারত সফরে গেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তাঁর বৈঠকের কথা রয়েছে।
ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, প্রযুক্তি এবং কৌশলগত সহযোগিতা জোরদারের বিষয়গুলো দুই নেতার আলোচনায় প্রাধান্য পেতে পারে। এর আগে সম্প্রতি কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে অনুষ্ঠিত সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) সম্মেলনের ফাঁকে মোদি ও পুতিনের সর্বশেষ সাক্ষাৎ হয়েছিল।
সেই বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধ প্রসঙ্গ তুলে নরেন্দ্র মোদি দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের অবসানের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছিলেন। তিনি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে যুদ্ধের পরিবর্তে শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ক্রেমলিন সূত্রে জানা গেছে, এবারের বৈঠকে ব্রাহমোস ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির উন্নয়ন, এস-৪০০ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ, সু-৫৭ যুদ্ধবিমান সহযোগিতা এবং ভারতে নতুন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সম্ভাব্য পরিকল্পনাসহ একাধিক বিষয় আলোচনায় আসতে পারে।
সফরের সময় পুতিন ব্রিকস বিজনেস ফোরামের বার্ষিক অধিবেশনেও বক্তব্য রাখবেন। পাশাপাশি তিনি ভারতের শিল্প প্রদর্শনী ‘ইনোপ্রম’ পরিদর্শন করবেন এবং বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এর মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে এবারের সফরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে পুতিনের কোনো পৃথক পূর্ণাঙ্গ বৈঠক নির্ধারিত হয়নি বলে জানা গেছে।
শনিবার শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী ব্রিকস সম্মেলনে সদস্য দেশগুলোর রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা অংশ নেবেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত থাকবেন। সম্মেলনের সমাপনী দিনে একটি যৌথ ঘোষণা প্রকাশের মধ্য দিয়ে আয়োজন শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে সম্মেলনের ফাঁকে নরেন্দ্র মোদিরও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করার সম্ভাবনা রয়েছে।
