ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ বাহিনীর মনোবল বাড়াতে এবার ইতিহাস ও ধর্মীয় আবেগকে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। মধ্যযুগের রুশ সামরিক নেতা দিমিত্রি দনস্কয়ের দেহাবশেষ যুদ্ধরত রুশ সেনাদের কাছে নেওয়ার পরিকল্পনায় তিনি সমর্থন জানিয়েছেন বলে একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
ডেইলি বিস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) মস্কোর ঐতিহাসিক আর্কেঞ্জেল ক্যাথেড্রাল পরিদর্শন করেন পুতিন। এর আগে ক্যাথেড্রাল সংস্কারের সময় সেখানে দিমিত্রি দনস্কয়ের দেহাবশেষ পাওয়া যাওয়ার কথা জানায় রুশ অর্থোডক্স চার্চ।
ক্রেমলিনের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, প্রার্থনাসভায় অংশ নিয়ে মোমবাতি হাতে দাঁড়িয়ে আছেন পুতিন। সেখানে রুশ সেনাবাহিনীর বিজয়, দেশের জন্য কল্যাণ এবং প্রেসিডেন্টের জন্য আশীর্বাদ কামনা করে প্রার্থনা করা হয়। পরে কাপড়ে ঢাকা দেহাবশেষ রাখা দুটি সমাধিও পরিদর্শন করেন তিনি।
চার্চের দাবি, পাওয়া দেহাবশেষ প্রায় অক্ষত অবস্থায় রয়েছে। শুধু বাম পায়ের গোড়ালির একটি হাড় পাওয়া যায়নি। এগুলো ১৩৮৯ সালে মারা যাওয়া দিমিত্রি দনস্কয়ের বলে শনাক্ত করা হয়েছে। ১৩৮০ সালের কুলিকোভোর যুদ্ধে মঙ্গোল বাহিনীর বিরুদ্ধে বিজয়ের কারণে রুশ ইতিহাসে তিনি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক নেতা হিসেবে পরিচিত।
রুশ অর্থোডক্স চার্চের প্রধান প্যাট্রিয়ার্ক কিরিল দেহাবশেষের কিছু অংশ ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া রুশ সেনাদের কাছে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। পুতিন এই পরিকল্পনার কথা জানেন বলে উল্লেখ করেছেন এবং এ বিষয়ে কিরিলকে শুভেচ্ছা জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
দেহাবশেষ আবিষ্কারের ঘটনাকে পুতিন ব্যতিক্রমী ও অলৌকিক ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। রাশিয়ার কিছু ধর্মীয় ও রাজনৈতিক মহলও এটিকে যুদ্ধরত রুশ বাহিনীর জন্য বিশেষ প্রতীকী বার্তা হিসেবে দেখছে।
দিমিত্রি দনস্কয়ের সামরিক ঐতিহ্য রাশিয়ায় এর আগেও প্রচারের অংশ হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তার নাম ব্যবহার করে একটি ট্যাংক ইউনিট গঠনের জন্য অর্থ সংগ্রহ করেছিল রুশ অর্থোডক্স চার্চ।
ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়া এবং রাশিয়ার সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়ার প্রেক্ষাপটে ইতিহাসের এই সামরিক বীরের স্মৃতিকে সামনে আনার উদ্যোগকে অনেকে যুদ্ধ প্রচারে ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক প্রতীকের ব্যবহার হিসেবে দেখছেন।
